Article By – সুনন্দা সেন

ভারত সরকার দেশের 6G যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে শিগগিরই একটি বিস্তৃত রোডম্যাপ তৈরির আলোচনা শুরু করতে চলেছে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে দেশীয় প্রযুক্তির উন্নয়ন, ভারতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানে পেটেন্ট তৈরিতে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, 6G প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, মান নির্ধারণ এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারতকে বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় কমিউনিকেশন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সাইন্ডিয়া (Jyotiraditya Scindia) আগেই জানিয়েছেন যে 6G প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারত শুধু ব্যবহারকারী নয়, বরং বৈশ্বিক মান নির্ধারন ও পেটেন্ট উন্নয়নের অন্যতম নেতৃত্বাদানকারী দেশ হতে চায়। ভারতের লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী 6G সম্পর্কিত পেটেন্টের অন্তত ১০% অবদান রাখা। এই লক্ষ্যে কাজ করছে ভারত 6G অ্যালায়েন্স (Bharat 6G Alliance), যেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, স্টার্টআপ এবং আইআইটিগুলি একসঙ্গে কাজ করছে। জোটটি ইতিমধ্যেই 6G মান নির্ধারণ সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আলোচনায় অংশ নিচ্ছে এবং ভারতের একাধিক প্রস্তাব বৈশ্বিক স্তরে গ্রহণও করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, 6G প্রযুক্তি ২০৩০ সালের আশেপাশে বাণিজ্যিকভাবে চালু হতে পারে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর নেটওয়ার্ক, টেরাহার্টজ স্পেকট্রাম, হোলোগ্রাফিক যোগাযোগ, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং অত্যন্ত কম লেটেন্সির মতো উন্নত সুবিধা থাকবে। ভারতের এই 6G উদ্যোগ শুধু টেলিকম খাতকেই নয়, বরং ডিজিটাল অর্থনীতি, উৎপাদন শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্মার্ট সিটি প্রকল্পগুলিকেও নতুন গতি দিতে পারে। সরকার মনে করছে, আগামী দশকে 6G ভারতের প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।




