Article By – সুনন্দা সেন

আগামী অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেট ভারতের উৎপাদন ও পরিকাঠামো খাতে উল্লেখযোগ্য বুস্ট আসতে চলেছে, আর এমনই মত প্রকাশ করেছে ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্স। তাদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরকারের মূলধনী ব্যয় বা ক্যাপেক্সে ধারাবাহিকতা প্রবল এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিল্প ও পরিকাঠামো বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে। ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের মতে, নতুন বাজেটে সরকার উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করতে একাধিক স্তরে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। বিশেষ করে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রোডাকশন লিঙ্ক সেমিকন্টাক্টর, ক্যামিক্যাল এবং ক্যাপিটাল গুডসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ বাড়বে।
রিসার্চ সংস্থার মতে, এর ফলে দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি পরিকাঠামো খাতেও বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মনে করছে। বাজেটে রেলওয়ে, সড়ক, বন্দর, বিদ্যুৎ বা ইলেকট্রনিক্স এবং নগর পরিকাঠামোয় সরকারি বিনিয়োগ উচ্চ স্তরে বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্যাপেক্স ব্যয় শুধু সরাসরি অবকাঠামো উন্নয়নই করবে না। বরং সিমেন্ট, স্টিল, কনস্ট্রাকশন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থাগুলির চাহিদাও উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়াবে।
ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্স আরও জানিয়েছে, সরকার রাজস্ব ঘাটতি ও ডেট-GDP রেসিও নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকেও নজর দিচ্ছে। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখেই রাইসিং কস্ট (Rising Cost)-এ জোর দেওয়ায় ভারতের সামগ্রিক ম্যাক্রো ইকোনমিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে বেসরকারি বিনিয়োগও উৎসাহিত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও ভারতকে একটি বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, ২০২৬-২৭ বাজেট সেই পথকেই আরও মজবুত করছে।
সাপ্লাই চেন বৈচিত্র্যকরণে ভারতের গুরুত্ব বাড়বে এবং রপ্তানিমুখী শিল্পগুলির প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা আরও উন্নত হবে। ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে বড় কোনো ধাক্কা না আসে এবং সুদের হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। তাহলে আগামী বছর উৎপাদন ও পরিকাঠামো খাত ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির প্রধান চালক হয়ে উঠতে পারে।




