Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বৈদ্যুতিক গাড়ি বা EV-র বাজার দ্রুত বাড়ছে। দুই চাকা (টু-হুইলার) স্কুটার থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক SUV; সবক্ষেত্রেই বাড়ছে চাহিদা। ২০২৫ সালে দেশে ইলেকট্রিক ভেহিকেলের বিক্রি ২৩ লক্ষ ইউনিটের কাছাকাছি স্তরে পৌঁছায়। এছাড়া ভারত সরকার ও FAME (Faster Adoption and Manufacturing of Hybrid & Electric Vehicles) স্কিম, ট্যাক্স ছাড় এবং উৎপাদন ভর্তুকির মাধ্যমে এই খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে প্রশ্ন উঠছে চার্জিং পরিকাঠামো নিয়ে।
গাড়ি বাড়ছে দ্রুত, কিন্তু সেই হারে চার্জিং স্টেশন বাড়ছে কী? বর্তমানে দিল্লি, ব্যাঙ্গালুরু, মুম্বাই, হায়দ্রাবাদের মতো বড় শহরে চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এছাড়া ন্যাশনাল হাইওয়েতে ফার্স্ট চার্জিং করিডর তৈরি হচ্ছে। টানা পাওয়ার, স্ট্যাটিকের মতো সংস্থাগুলি উদ্যোগ নিচ্ছে নতুন করে। কিন্তু সমস্যা রয়েছে একাধিক। আর সেগুলি হলো,
- প্রথমত, ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায় চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা এখনও খুব কম। ফলে দীর্ঘ দূরত্বে ইভি ব্যবহার নিয়ে অনেকেই অনিশ্চয়তায় থাকছেন।
- দ্বিতীয়ত, বহু আবাসনে ব্যক্তিগত চার্জার বসানোর সুযোগ নেই। বিশেষ করে অ্যাপার্টমেন্টে থাকা মানুষদের জন্য এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
- তৃতীয়ত, শুধু চার্জারের সংখ্যা বাড়ালেই হচ্ছে না— তার নির্ভরযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করছেন, কিছু স্টেশন কাজ করে না, অ্যাপ সংযোগে সমস্যা হয়, আবার কোথাও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।
এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও বড় চ্যালেঞ্জ। আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং স্টেশনের জন্য শক্তিশালী গ্রিড ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ দরকার, যা এখনও দেশের সব জায়গায় নেই। অন্যদিকে, ব্যাটারি swapping প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিশেষ করে ডেলিভারি স্কুটার ও শহুরে পরিবহণে এই মডেল জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে যদি চার্জিং নেটওয়ার্ক দ্রুত সম্প্রসারণ না হয়, তাহলে সেটাই ভারতের ইভি বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ, ইভির চাহিদা বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চার্জিং পরিকাঠামো গড়ে তোলাই এখন ভারতের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।




