Article By – সুনন্দা সেন

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সংসদে পেশ করছেন ইউনিয়ন বাজেট, ২০২৬-২৭। এই বাজেটে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হল দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারত যেন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই বাজেটের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় জানান, সরকার উন্নয়ন ও আর্থিক শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগোতে চায়। একদিকে যেমন প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে রাজকোষীয় ঘাটতি নিয়ন্ত্রণেও নজর রাখা হয়েছে।
আবার সরকারের দাবি, এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে। এই বাজেটের অন্যতম বড় ঘোষণা হল মূলধনী ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করেছে। সড়ক, রেল, মেট্রো রেল, নগর পরিবহণ, আবাসন, বিদ্যুৎ এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি—সব ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের মতে, এই উচ্চ মূলধনী ব্যয় অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়াবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
রেল ও সড়ক পরিকাঠামোয় জোর দেওয়ার ফলে পণ্য পরিবহণের খরচ কমবে এবং শিল্পক্ষেত্র আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরাঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে নগর জীবনের মানোন্নয়ন এবং নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বাজেটে ‘গ্রোথ সেক্টর’ বা উন্নয়নমুখী খাতগুলিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন শিল্প, ম্যানুফ্যাকচারিং, নতুন প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং সবুজ শক্তিকে এগিয়ে নিতে একাধিক নীতিগত সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী কয়েক বছরে ভারতকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দেশের অবস্থান আরও মজবুত করা।




