Article By – সুনন্দা সেন

সরকারের প্রস্তাবিত পণ্য ও পরিষেবা কর বা GST(Goods and Services Tax) সংস্কার ২০২৫–২৬ অর্থবছরে খুচরা মূল্যস্ফীতিকে প্রায় ৩৫ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমাতে পারে বলে অর্থনৈতিক মহলের ধারণা। করের হার rationalisation, একাধিক স্ল্যাব সহজীকরণ এবং ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট ব্যবস্থার উন্নতির ফলে উৎপাদন ও বিতরণ ব্যয় কমবে। আর তার প্রভাব সরাসরি ভোক্তা দামের ওপর পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কিছু ভোগ্যপণ্যে করের স্তর তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় মূল্যচাপ তৈরি হচ্ছে।
তাই বলা হচ্ছে যে, GST কাঠামোতে সংশোধন হলে সেই চাপ কমবে এবং খাদ্য-অখাদ্য উভয় ক্ষেত্রেই দাম স্থিতিশীল হতে পারে। এর ফলে ভোক্তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং চাহিদা পুনরুদ্ধারে গতি আসবে। এদিকে, খুচরা মূল্যস্ফীতি কমলে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) জন্য মুদ্রানীতি পরিচালনা আরও সহজ হবে। মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি থাকলে সুদের হারে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা বা ভবিষ্যতে নরম নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা বিনিয়োগ ও বৃদ্ধিকে সমর্থন করবে। সাথে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল হিসেবে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
সরকারি মহল মনে করছে, GST সংস্কার শুধু রাজস্ব সংগ্রহের দক্ষতা বাড়াবে না, বরং সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা এনে ব্যবসার খরচ কমাবে। এর ইতিবাচক প্রভাব মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারের ওপর পড়বে, যাদের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বড় ভূমিকা রাখে। এছাড়া বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, FMCG সামগ্রী, গৃহস্থালি উপকরণ ও কিছু পরিষেবা খাতে করের বোঝা কমলে মূল্যচাপ হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কিছুটা হলেও কমবে এবং প্রকৃত আয় বাড়বে। কারণ সরকারি সূত্রের মতে, GST সংস্কারের মাধ্যমে শুধু ভোক্তারা নয়, ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন। কর কাঠামো সহজ হলে কমপ্লায়েন্স খরচ কমবে, সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং রাজস্ব আদায় আরও দক্ষ হবে।




