Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের ট্যাক্স দপ্তর (Income Tax Department) জাতীয় অর্থনীতির ডিজিটাল কর্মক্ষমতা ও কর সংগ্রহ নীতি কঠোর করতে ৪-৫টি বড় বিদেশী ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দিয়েছে। আয়কর দপ্তর অভিযোগ করে যে তাদের কার্যক্রম ভারতে ‘পার্মানেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (PA) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অর্থাৎ তাদের কার্যক্রম এখানে স্থায়ী ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং তাই করযোগ্য উপস্থিতি তৈরি করেছে। এই নোটিশগুলো তথাকথিত PE নির্ধারণের প্রেক্ষাপটে ইস্যু করা হয়েছে। PE হলো বিদেশি কোনো কোম্পানির এমন একটি স্থায়ী ব্যবসায়িক উপস্থিতি, যার মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত ভৌত বা ডিজিটাল কার্যক্রম করে সে কোনো দেশে করযোগ্য আয় অর্জন করতে পারে।
একবার কোনো কোম্পানি PE হিসেবে বিবেচিত হলে, ভারতের আয়কর আইন ও সংশ্লিষ্ট কর চুক্তি অনুসারে সরকারের কাছে তাদের ভারতে অর্জিত আয়ের একটি অংশ কর হিসেবে প্রদানের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলি এই সিদ্ধান্তের কঠোরভাবে বিরোধিতা করছে এবং তারা পর্যায়ক্রমে আইনি লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা উল্লেখ করেছে যে তাদের ভারতের উপস্থিতি শুধুমাত্র সীমিত “যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা”, যেমন সাপোর্ট সিস্টেম বা প্রযুক্তিগত সেট-আপের জন্য। যা ভৌত অফিস বা স্থায়ী ব্যবসা হিসাবে বিবেচিত হওয়া উচিত নয়। এই অবস্থান তাদের করের দায়িত্বকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করবে, যা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য বড় আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করছে।
ট্যাক্স দপ্তর এই বিষয়ে Dispute Resolution Panel (DRP) বা Assessing Officer পর্যায়ে মামলা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত হচ্ছে, এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই বিষয়গুলো দীর্ঘস্থায়ী আইনি লড়াইতে পরিণত হতে পারে। এই লড়াইয়ের ফল ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিতে PE-এর ব্যাখ্যা ও করযোগ্য উপার্জন নির্ধারণ কিভাবে হবে তার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, যা ভবিষ্যতে অনুলিপিযোগ্য হবে। এদিকে সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতিগত আলোচনায় PE-এর পরিবর্তে Presumptive Tax মডেল আনার প্রস্তাবও রয়েছে, যেখানে বিদেশি ডিজিটাল কোম্পানিগুলিকে আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশের উপর কর ধার্য করা হবে। এর মাধ্যমে PE-ভিত্তিক জটিলতার ঝামেলা কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও অনেক প্রতিষ্ঠান তা মানতে নারাজ।




