দেশের প্রত্যেক মৌলিক ছাড়ের সীমার অতিরিক্ত আয় প্রাপ্ত ব্যক্তিদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করা ডিউটি। এরপরেও এখনো অনেকে এমন রয়েছেন যারা মনে করেন আয়কর রিটার্ণ ফাইল করা অত্যাবশ্যক নয় এবং ফাইল না করলে ক্ষতি হবে না, তাই – তারা আয়কর রিটার্ন ফাইল করে না। আবার আরেক দল বেতন ভোগী ব্যক্তিরা মনে করেন, ITR (Income Tax Return File) করলে বেতন থেকে TDS কেটে নেওয়া হয় তাই ফাইল করার প্রয়োজন নেই। অবশ্য এমন করার কারণ হল ফর্ম- ১৬ তে উল্লেখ করা TDS সংক্রান্ত বিষয়। তবে এই সব কিছু ভ্রান্ত ধারণা।

বয়সের এবং রোজগারের নিরিখে ভারত সরকারের কর কাঠামো সাজানো হয়েছে। তাই মৌলিক ছাড়ের অতিরিক্ত যে ব্যক্তির আয় তাদের আয়কর রিটার্ণ ফাইল দাখিল করতে হবে। আর তারা হলে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর অনুযায়ী যে সকল ব্যক্তির বয়স ৬০ বছরের কম তাদের জন্য মৌলীর আযের সীমা ২.৫ লাখ টাকা। তার বেশি আয় উপার্জনকারীকে আয়কর রিটার্ন ফাইল করতে হবে। ৬০ বছর থেকে ৮০ বছরের জন্য সীমা ৩ লাখ টাকা এবং ৮০ বছরের বেশী বয়সীদের জন্য সেই সীমা ৫ লক্ষ টাকা। আর যাদের আয় তার থেকে বেশি তাদের আয়কর রিটার্ণ ফাইল করতে হবে। এছাড়া যে ব্যক্তির সেভিংস ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি টাকা রয়েছে সে এবং বিদেশ ভ্রমনের জন্য ২ লক্ষ টাকা খরচ করছে ও মাসে ১ লক্ষ টাকা বা তার বেশি বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছেন। তাদের আয়কর রিটার্ণ ফাইল করা আবশ্যক।
সরকারি প্রকল্পের কোর্স
আবার ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ণ ফাইল দাখিল করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম পালন করতে হয়। এই যেমন যে সকল ব্যবসায়ির বার্ষিক মোট টার্নওভার ৬০ লাখ টাকার বেশি তাদের তাদের আয়কর রিটার্ন ফাইল করতে হয়। এছাড়া একজন পেশাদারের ১০ লাখ টাকা লাভ হলে ITR ফাইল করতে হয়। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে সেভিংস ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ টাকার বেশি অর্থ থাকলে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।
আপনারা যারা আয়কর আওতায় পড়েন তাদের ৩১ জুলাই, ২০২৪- এর মধ্যে অবশ্যই আয়কর রিটার্ণ ফাইল দাখিল করতে হবে। যদি কোনো কারণ বশত নির্দিষ্ট সময়ে না করতে পারেন সেক্ষেত্রে আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমানে জরিমানা এবং করের ওপর সুদ দিতে হবে সরকারকে। অবশ্য ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে যারা ভুলে যাবেন তারা জরিমানা প্রদান করার সাথে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ অব্দি আয়কর রিটার্ণ ফাইল করার সুযোগ পাবেন।

Article By – সুনন্দা সেন



