Article By – সুনন্দা সেন

ভারত সরকার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে চীনা যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানির অনুমতি দিয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো বড় অবকাঠামো, ইলেকট্রিক বা বিদ্যুৎ, টেলিকম ও উৎপাদন প্রকল্পে বিলম্ব কমানো এবং দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে চলা। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যগত ঝুঁকির কারণে চীনা সরঞ্জামের ওপর কঠোর নজরদারি ছিল। তবে বাস্তব প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে এখন কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়র কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ নীতি পরিবর্তন নয়, বরং ‘কেস-বাই-কেস’ ভিত্তিতে বাস্তব সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, যেসব প্রকল্পে বিকল্প সরবরাহকারী দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে না বা খরচ অত্যন্ত বেশি, সেসব ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে আমদানি করা যাবে। আর এই অনুমতি স্বয়ংক্রিয় নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই ও অনুমোদন লাগবে। সাে পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে গর্ভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া বা ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রক ও সিকিউরিটি এজেন্সি সংস্তাগুলি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌর প্রকল্প, ভারী যন্ত্রপাতি এবং কিছু টেলিকম অবকাঠামোতে এখনও চীনা সরঞ্জাম তুলনামূলক সস্তা ও দ্রুত পাওয়া যায়: ফলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রাখলে প্রকল্পের খরচ ও সময় দুইই বাড়ে। এই বাস্তবতা থেকেই সীমিত ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে। ২০২০ সালের সীমান্ত উত্তেজনার পর থেকে ভারত ধাপে ধাপে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন নীতি একদিকে অর্থনৈতিক বাস্তবতা মেনে নেওয়া, অন্যদিকে নিরাপত্তা রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে জড়িত দেশ হিসেবে China-এর ভূমিকা আবারও আলোচনায় এসেছে। শিল্পমহলের মতে, এই সীমিত অনুমতি দিলে বিদ্যুৎ প্রকল্প, রেল অবকাঠামো, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে কাজের গতি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বড় মাপের সৌর প্যানেল ও পাওয়ার ইকুইপমেন্টের ক্ষেত্রে সরবরাহ দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




