Article By – সুনন্দা সেন

লজিস্টিক্স ও ই–কমার্স খাতে গতি আনতে পার্সেল ব্যবসা সম্প্রসারণে বড় সংস্কার ঘোষণা করল ভারতীয় রেল। রেলওয়ে পার্সেল পরিষেবায় অংশগ্রহণের নিয়ম সহজ করা হয়েছে, যাতে ছোট ব্যবসায়ী, MSME ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা সহজেই এই পরিষেবার সুবিধা নিতে পারেন। রেলের লক্ষ্য, সড়ক পরিবহণের পাশাপাশি রেলকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক লজিস্টিক্স মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা। রেল সূত্রে জানা গেছে, নতুন সংস্কারের আওতায় পার্সেল লোডিং–আনলোডিং সংক্রান্ত যোগ্যতার শর্ত শিথিল করা হয়েছে।
অবশ্য আগের তুলনায় কম নিরাপত্তা জামানত বা সিকিউরিটি ক্যাপিটাল ও কম টার্নওভার শর্তে এখন ব্যবসায়ীরা পার্সেল পরিষেবায় যুক্ত হতে পারবেন। এর ফলে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য রেলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ আরও সাশ্রয়ী ও সহজ হবে। এই সংস্কার বিশেষভাবে কৃষিপণ্য, দ্রুত নষ্ট হওয়া পণ্য, ই–কমার্স পার্সেল এবং ক্ষুদ্র শিল্পজাত পণ্যের পরিবহণে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পার্সেল ট্রেন ও লাগেজ কাম পার্সেল ভ্যানের ব্যবহার বাড়িয়ে সময়মতো ও নির্ভরযোগ্য ডেলিভারির উপর জোর দেওয়া হবে। এতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে পণ্য পরিবহণ আরও ইজি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্সেল ব্যবসা বাড়লে রেলের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের লজিস্টিক্স খরচও কমতে পারে। বর্তমানে ভারতের লজিস্টিক্স ব্যয় জিডিপির তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি। রেলের অংশগ্রহণ বাড়লে পরিবহণ খরচ কমবে এবং কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাবে, যা পরিবেশের দিক থেকেও ইতিবাচক। অর্থাৎ পার্সেল ব্যবসা বাড়াতে ভারতীয় রেলের এই সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে, অন্যদিকে রেলকে ভবিষ্যতের মাল্টি–মোডাল লজিস্টিক্স ব্যবস্থার একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।




