Article By – সুনন্দা সেন

ভারত চলতি বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে কয়লা আমদানি প্রায় ৩০% কমানোর পরিকল্পনা করেছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার সত্ত্বেও আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনের ওপর জোর দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এক সংবাদ সংস্থা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত বছরে বিদ্যুৎ খাতে যে পরিমাণ ফর্মাল কোল আমদানি হয়েছিল, তার তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। আর এই বিদ্যুৎ খাতে কয়লা আমদানি কমানোর লক্ষ্য ভারতের জ্বালানি নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কয়লা ব্যবহারকারী দেশ। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় 90% থেকে 95% এখনও কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে হয়। যদিও রিনিউওয়েবেল এনার্জি প্রসার দ্রুত বাড়ছে, তবুও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কয়লা এখনও প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রেক্ষপটে আমদানি কমানোর সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আর সরকারের কৌশল মূল দুই ভাগে বিভক্ত। আর সেগুলি হল–
- প্রথমন, দেশীয় কয়লা উৎপাদন বাড়ানো। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড ইতিমধ্যেই উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। গত কয়েক বছরে দেশয় কয়লা উৎপাদনে ধারাবাহিক বৃদ্ধিও দেখা গেছে, যা আমদানি বিকল্প জোগান দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
- দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে আমদানিকৃত কয়লার পরিবর্তে দেশীয় কয়লার ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সাথে প্রয়োজন পড়লে ব্লেন্ডিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় কয়লা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ভারতের কিছু তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বিশেষভাবে আমদানিকৃত উচ্চ-গুণমানের কয়লার জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর সেখানে সরাসরি দেশীয় কয়লা ব্যবহার করলে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে বা যন্ত্রপাতির পুনঃসমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করতে হতে পারে।




