Article By – সুনন্দা সেন

বাণিজ্য-যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠন এবং প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে একের পর এক বড় পরিবর্তন। এই পরিস্থিতিতে শুধু অপেক্ষা করে থাকলে চলবে না, বরং দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দিল ভারতের অর্থমন্ত্রক। তাঁর মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চিত এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। যার ফলে ভারতকে এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে, যা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। আর এর জন্য শুধু স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কারেও জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুল্ক নীতি, বাণিজ্যিক বাধা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধারা বদলে দিচ্ছে। অনেক বহুজাতিক সংস্থা তাদের উৎপাদন কেন্দ্র বৈচিত্রময় করছে। আর ঠিক এই পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে ভারত। তাই উৎপাদন, রপ্তানি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে আরও গতি আনতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করতে আগ্রহী। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপের ফলে উৎপাদন, প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy) এবং অবকাঠামো খাত সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে। এছাড়া বিদেশী সংস্থাগুলির কাছে ভারত আরও আকর্ষনীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।
অর্থমন্ত্রক আরও মনে করছেন, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা করার পরিবেশ আরও সহজ করা এবং প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো আগামী দিনের প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ (Human Resources) গড়ে তোলা এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যা ভারতীয় বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্কও করেছেন। শুধু পলিসি ঘোষণা করলেই হবে না, সেগুলি দ্রুত বাস্তবায়ন, নিয়ন্ত্রক স্বচ্ছতা এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বয় নিশ্চিত করতে পারলেই ভারতের অর্থনীতি বৈশ্বিক পরিবর্তনের সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারবে।




