Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর (PSU Bank) আর কোনো মার্জার নিয়ে আপাতত নির্ধারিত রোডম্যাপ নেই বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার নতুন মার্জার নয়; বরং পুরো ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বাজেট আলোচনাতেও নতুন PSU ব্যাংক মার্জারের কোনো পরিকল্পনা রাখা হয়নি। অবশ্য আগে একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক মার্জ করা হয়েছে ও শক্তিশালী ব্যাংক তৈরী করা হয়েছে। যার ফলে মূলধন বৃদ্ধি, অপারেশন দক্ষতা ও কমিপিটেড পাওয়া কিছুটা বেড়েছে।
কিন্তু এখন সরকার মনে করছে, আরও মার্জারের আগে পুরো সেক্টরের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। এই কারণেই একটি উচ্চস্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূল সমস্যাগুলি, প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ, গ্রাহক পরিষেবা উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির বাড়তে থাকা ঋণ চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা—সব দিক খতিয়ে দেখবে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভারতের ব্যাংকিং সিস্টেম আগের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল। মূলধনের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে এবং নন-পারফর্মিং অ্যাসেট বা খারাপ ঋণের হারও আগের তুলনায় কমেছে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, অধিকাংশ ব্যাংকের ব্যালান্সশিট এখন তুলনামূলকভাবে সুস্থ এবং তারা অর্থনীতির ক্রেডিট চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন মার্জার না হওয়ায় আপাতত পৃথক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় থাকবে এবং তারা নিজেদের ব্যবসায়িক কৌশল অনুযায়ী বৃদ্ধি পরিকল্পনা নিতে পারবে। একই সঙ্গে সংস্কার কমিটি ভবিষ্যতে ডিজিটাল ব্যাংকিং, সাইবার সিকিউরিটি, গ্রাহক সুরক্ষা এবং নতুন আর্থিক পণ্যের উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও সুপারিশ দিতে পারে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, এখন লক্ষ্য শুধু ব্যাংকের সংখ্যা কমানো নয়।




