বর্তমানে বৈশ্বিক চাকরি বাজারের অবস্থা বিশেষ স্থিতিশীল নয়। তবে খাদ্য পণ্যের তীব্র মুদ্রাস্ফীতি সময়ের সাথে বেড়েই চলেছে। এমন অবস্থায় চাকরি না পেলে ব্যবসা হয়ে ওঠে উপার্জনের একমাত্র রাস্তা। আবার অনেকে চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত উপার্জনের জন্যও ব্যবসা শুরু করেন। তবে যে কোনো ব্যবসা শুরু করার জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন পড়ে মূলধনের। যার অভাবে ইচ্ছে থাকলেও অনেকেই ব্যবসা শুরু করতে পারেন না। কিন্তু এবার আর এই বিষয় করতে হবে না চিন্তা। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ব্যবসা শুরু করার জন্য বিশেষ সহযোগিতার কথা ঘোষণা করেছে। রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন দপ্তরের তরফ থেকে এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই ‘মেগা স্কিমে’ (scheme)- এর মাধ্যমে কৃষক, FP এবং FPC নানা ভাবে উপকৃত হবে।
প্রকাশি তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে উদ্যান পালন উন্নয়ন মিশনের প্রকল্প (scheme) অনুসারে বেশ কয়েকটি বিশেষ ব্যবসা শুরু করার জন্য ব্যবসায়ীরা আর্থিক অনুদান পাবেন। তবে কারা এই সুবিধা পাবেন, চলুন সে বিষয় দেখে নেওয়া যাক:-
- ৮ হর্স পাওয়ার যুক্ত বা তার বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন পাওয়ার টিলার কিনতে গেলে পাবেন সরকারি স্কিমের সাহায্যে আর্থিক অনুদান, অর্থাৎ যদি চাষ বা সেই সংক্রান্ত ব্যবসা করতে গেলে সাহায্য পাবেন। জানা যাচ্ছে সেক্ষেত্রে মোট খরচের ৪০% অর্থাৎ পাওয়ার টেলার কিনতে যা খরচ হবে তার ৪০% স্কিম (Scheme) থেকে পাবেন। এই হিসাবে কৃষকরা প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকার অনুদান পাবেন।
- যদি কেউ বা কৃষক মশলা চাষ করেন সেক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে তারা একটি বিশেষ সুবিধা পাবেন। আর মশলার ব্যবসা শুরু করার সময় চাষ থেকে বিক্রি পর্যন্ত যে খরচ হবে তার ৪০% পর্যন্ত অনুদান পাবেন। আর আর্থিক হিসাবে সেই পরিমান প্রতি হেক্টর জমি হিসাবে ১২ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
- যদি কোনো ব্যক্তি গ্রিন হাউজ ঘর তৈরি করতে চান, তাহলে সরকারের তরফ থেকে ‘মেগা স্কিম’ (Scheme)- এর অন্তর্গত আর্থিক অনুদান লাভ করতে পারেন। এক্ষেত্রে সরকার প্রতি বর্গমিটারে জন্য ৫৩০ টাকার সুবিধা পাবেন। আর একজন ব্যবসায়ী সর্বোচ্চ ৪০০০ বর্গমিটারের জমিতে গ্রীন হাউজ ঘর তৈরি করলে অনুদান পাবেন।
- কোনো ব্যক্তি যদি ফলের প্যাকিং হাউস খোলেন সেক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আর্থিক অনুদানের সাহায্য পাবেন। সেক্ষেত্রে ৯ মিটার × ৬ মিটার একটি প্যাকিং হাউস তৈরী করতে মোট যা খরচ হবে তার ৫০% সরকার সাহায্য করে। সরকারি মতে, প্রতি প্যাক হাউস পিছু সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকার অনুদান পাওয়া যায়।
পিঁয়াজ সংরক্ষণের পরিকাঠামো গড়ে তোলার ব্যবসায়ে আর্থিক অনুদান পেতে পারেন, তবে মাথায় রাখতে হবে ২৫ মেট্রিক টন পিঁয়াজ সংরক্ষণ করার জন্য অনুদান মিলবে। আর হিসাব বলছে একজন কৃষক প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৮৭,৫০০ টাকার সাহায্য পেতে পারেন।
Article By – সুনন্দা সেন






