Article By – সুনন্দা সেন

আগামী অর্থবর্ষের বাজেট ২০২৬-২৭ নিয়ে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রক। এছাড়া জানা যাচ্ছে যে ৯ অক্টোবর থেকেই প্রি-বাজেট বৈঠক শুরু হয়েছে, যেখানে অর্থনীতিবিদ, কৃষি বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরা নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি ও আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবার সরকারের সামনে আরও একটি বৃদ্ধিমুখী বাজেট উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে। এদিকে বাজেটকে সামনে রেখে BFSI (ব্যাংকিং, ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইনস্যুরেন্স) খাতের সংস্থাগুলি সরকারকে নতুন রিফাইন্যান্স উইন্ডো চালুর দাবি জানিয়েছে। এতে NBFC এবং ছোট ব্যবসাগুলির জন্য ঋণপ্রবাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিল্প সংস্থা CII এবং FICCI উভয়েই সরকারের কাছে কর ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন দাবি করেছে। তাদের মতে, কর-বিবাদের দ্রুত নিষ্পত্তি, ডিজিটাল কাস্টমস প্রক্রিয়া, এবং আরও যুক্তিযুক্ত TDS কাঠামো তৈরি করলে ব্যবসা করা আরও সহজ হবে এবং এর ফলে বিনিয়োগও বাড়বে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের GDP বৃদ্ধির হার ৬.৩%-এ নামিয়ে এনেছে, যা শিল্পমহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজেটে কঠোর সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির রূপরেখা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে বিশেষজ্ঞদের মত। শিল্পমহল বাজেট ২০২৬-২৭ বাজেটের আগে সরকারকে পাঁচটি বড় দাবি জানিয়েছে। আর সেগুলি হলো,
- প্রথমত, NBFC ও MSME খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে একটি নতুন রিফাইন্যান্স উইন্ডো চালুর অনুরোধ করা হয়েছে।
- দ্বিতীয়ত, খারাপ ঋণ দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য SARFAESI আইনে সংশোধন এনে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার দাবি উঠেছে।
- তৃতীয়ত, ব্যবসা সহজ করতে কর ব্যবস্থার সরলীকরণ, বিশেষ করে TDS কাঠামো যুক্তি সঙ্গত করা এবং কর সংক্রান্ত বিবাদ দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর জোর দিয়েছে শিল্প সংস্থাগুলি।
- চতুর্থত, আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে ও ট্রেড প্রক্রিয়া দ্রুত করতে কাস্টমস ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও সময়সাশ্রয়ী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- পঞ্চমত, অর্থনীতিতে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়াতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার জন্য নীতি স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কার আনার প্রস্তাব দিয়েছে শিল্পমহল।




