ভারতবর্ষের মতো দেশে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকা আয় অব্যাহত রাখা বেশ কষ্টসাধ্য, বিশেষত প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এবং তাঁদের জন্য যাঁদের সক্রিয় আয়ের কোনো উৎস নেই। যেসমস্ত ষাটোর্ধ্ব নাগরিকের একটি স্থায়ী, স্থির অবসরকালীন আয় রয়েছে, তাঁদের আয় দেশের পণ্য ও পরিষেবার খরচ বাড়লেও অপরিবর্তিত থাকে। সেই কারণে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের আর্থিক চাপ কমাতে কর ব্যবস্থায় বেশ কিছু ছাড় ও সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
কাদেরকে প্রবীণ নাগরিক বা সিনিয়র সিটিজেন বলা যায়?
ভারতে ষাট বছর অতিক্রান্ত যেকোনো ব্যক্তিকে সিনিয়র সিটিজেন বলা হয়। এবং যে ব্যক্তি আশি বছর বয়স পার করেছেন তাঁকে super senior citizen বলা হয়।
প্রবীণ নাগরিকদের করব্যবস্থায় সুবিধা:
সিনিয়র সিটিজেন এবং সুপার সিনিয়র সিটিজেনদের বৃদ্ধ বয়সে সুবিধার জন্য ১৯৬১ সালের আয়কর আইনে বেশ কিছু সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ছাড়ের সীমা: Exemption limit হল সেই সর্বোচ্চ সীমা যার উপরে ইনকাম ট্যাক্স কার্যকর হয় না। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য এই সীমা কিছুটা বেশি। ৬০ বছরের কম বয়সি ব্যক্তিদের জন্য ছাড়ের সীমা ২.৫ লাখ টাকা। সেখানে সিনিয়র সিটিজেন অর্থাৎ ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের জন্য এই ছাড়ের সীমা ৩ লাখ টাকা, এবং super senior citizen-দের জন্য ছাড়ের সর্বাধিক সীমা ৫ লাখ টাকা।
ছাড়ের সীমা অধিক থাকায় এটি তাঁদের জন্য বেশ সুবিধাজনক কারণ এতে করের বোঝা কমে এবং কর কাটার পর আয়ের পরিমাণ বাড়ে।
চিকিৎসা খরচে করব্যবস্থা: বয়ষ্কদের জন্য চিকিৎসা খরচে ব্যাপক অর্থ ব্যয় হয়। আয়কর ব্যবস্থায় মেডিক্যাল খরচে বেশ কিছু সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। আয়কর আইনের 80D-র ধারা অধীনে ৬০ বছরের অধিক বয়সের ব্যক্তিদের জন্য এক অর্থবছরে স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামে ২৫,০০০ টাকা ও ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স ডিডাকশনের সুবিধা রয়েছে।
এছাড়াও ধারা 80DDB-এর অধীনে ধারা ৫০৪ relaxation-এর নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কয়েকটি প্রধান প্রধান অসুখের চিকিৎসা বাবদ খরচের ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ডিডাকশন ক্লেম করতে পারেন একজন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি।
ইন্টারেস্ট আয়ের উপর কর ছাড়: যাঁরা ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট এবং রেকারিং অ্যাকাউন্ট থেকে প্রাপ্ত সুদ বাবদ আয় করেন তাঁদের জন্য কর ছাড়ের একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। আয়কর ধারার 80TTB-এর অধীনে একজন প্রবীণ নাগরিক সেভিংস অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট ও রেকারিং ডিপোজিট থেকে প্রাপ্ত সুদে সর্বাধিক ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত করছাড় দাবি করতে পারেন।
ট্যাক্স রিবেট: সিনিয়র সিটিজেনরা যদি নিজেদের করের পরিমাণের তুলনায় বেশি ট্যাক্স দিয়ে থাকেন তাহলে বাকি অর্থ রিফান্ড পেয়ে যান, যাকে ট্যাক্স রিবেট বলে।
Section 87A-এর অধীনে একজন প্রবীণ নাগরিকের মোট বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার বেশি না হলে তিনি ১২৫০০ টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স রিবেট পেতে পারেন অর্থাৎ এই অর্থ হবে করমুক্ত।
Advance Tax: প্রবীণ নাগরিকের যদি কোনো বিজনেস ইনকাম বা প্রফেশনাল ইনকাম না থাকে তাহলে তাঁকে advance tax জমা করতে হয় না। কর-সম্বন্ধীয় এই নিয়মগুলির কারণে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর্থিক চাপ কমে।
IT Return: আয়করের নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রবীণ নাগরিকের বয়স ৭৫ বছরের উপরে হলে তাঁকে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করতে হয় না যদি তিনি 12BB ফর্ম জমা করে জানান যে তিনি শুধুমাত্র পেনশন থেকে আয় করেন এবং একটিমাত্র ব্যাংক থেকে ইন্টারেস্ট আয় করেন।
ব্যক্তিগত ঋণে করের সুবিধা: ৬০ বছর বয়সের বেশি কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত ঋণ নিলে করছাড়ের জন্য ক্লেম করতে পারেন। ১৯৬১ সালের আয়কর আইনের ধারা 24(b)-এর অধীনে কোনো ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি প্রপার্টি কেনা, তেরি, মেরামত, পুনঃমেরামতের জন্য যদি পার্সোনাল লোন নিয়ে থাকেন তাহলে করছাড়ের আবেদন করতে পারেন।
এছাড়াও ব্যবসা ব্যবসা বা বিনিয়োগসংক্রান্ত কারণে ব্যক্তিগত ঋণ নিলে সেটির ক্ষেত্রেও সিনিয়র সিটিজেনরা করসুবিধা পাবেন।
পরিশেষে বলা যায়, ভারত সরকার প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক সচ্ছলতার কথা ভেবে বিভিন্নভাবে আয়কর সুবিধা প্রদান করে। আয়কর-সংক্রান্ত এই বিষয়গুলি সঠিকভাবে বুঝলে এই সম্বন্ধীয় সুযোগসুবিধাগুলি নেওয়া যাবে। তবে কোনোভাবে কোনো বিষয়ে বোঝার অসুবিধা হলে আর্থিক উপদেষ্টার সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।





