Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দেশের মোট ফরেক্স রিজার্ভ বেড়ে ৭০৯.৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, আগের সপ্তাহে ভারতের ফরেক্স রিজার্ভ ছিল প্রায় ৭০১ বিলিয়ন ডলার। যা মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই বৃদ্ধি পেছনে কাজ করছে একাধিক কারণ, যার মধ্যে অন্যতম হলো-আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার বাড়তে থাকা দাম এবং ডলার বহির্ভুত বৈদেশিক মুদ্রার অপসেট মূল্যায়নে বৃদ্ধি।
রিজার্ভের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ বা ফরেন করেন্সি অ্যাসেট। ডলার, ইউরো, পাউন্ড ও ইয়েনের মতো মুদ্রারসহ সম্পদ মূল্য সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে, পাশাপাশি স্বর্ণ বা গোল্ড মজুতের মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ায় সোনার মজুদের মূল্য উল্লেখিত সপ্তাহের শেষে ১২৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা তার আগের সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ায় স্বর্ণের মূল্যায়নের দিক থেকে ফরেক্স রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শুধু তাই নয়, এই রেকর্ড বৃদ্ধির মাঝেও রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া রুপির অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে রুপির চাপ বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রি করে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। এছাড়া ফরেক্স সোয়াপের মতো নীতিগত পদ্ধতি হাতিয়ার করে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রুপির তারল্য (Rupee Liquidity) বাড়ানো হয়েছে। এরপরেও মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কোনও প্রভাব পড়েনি, উল্টে বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ রিজার্ভ ভারতের জন্য এক ধরনের আর্থিক সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করবে। বর্তমানে এই রিজার্ভ দিয়ে ভারতের প্রায় ১১ থেকে ১২ মাসের আমদানি ব্যয় সহজেই মেটানো সম্ভব। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যখন অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তেলের দামের ওঠানামা চলছে, তখন এত বড় রিজার্ভ ভারতের জন্য বড় শক্তি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শক্তিশালী ফরেক্স রিজার্ভের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পায়, আর এখনো সেটাই হচ্ছে। এটি রুপিকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এবং সুদের হার ও মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বেশি স্বাধীনতা দেয়। একই সঙ্গে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বা হঠাৎ আর্থিক ঝাঁকুনি সামলানোর ক্ষমতাও অনেকটাই বাড়ে।




