Article By – সুনন্দা সেন

আজ ভারত ও ওমানের মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (CEPA) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পরিষেবা খাতে সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের অর্থনৈতিক কৌশল জোরদার করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই CEPA চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো শুল্ক হ্রাস বা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া, যাতে দুই দেশের পণ্যের বাজারে প্রবেশ সহজ হয়। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ওমান ভারতীয় রপ্তানির প্রায় ৯৮% পণ্যের ওপর শুল্কছাড় দিতে পারে।
যার কারণে ভারতের টেক্সটাইল, অটো কম্পোনেন্টস, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, রত্ন ও গয়না এবং রাসায়নিক শিল্প বড় সুবিধা পাবে। অন্যদিকে ওমান থেকে ভারতে জ্বালানি, LNG, সার ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের আমদানি আরও সহজ হবে। এই চুক্তি শুধু পণ্য বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিষেবা খাতেও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পর্যটন খাতে ভারতীয় সংস্থাগুলি ওমানে আরও সহজে কাজ করতে পারবে। পাশাপাশি, বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিয়ম সহজ হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৌশলগত দিক থেকেও ওমান ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশটি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবেও বিবেচিত হয়। CEPA চুক্তি কার্যকর হলে ভারত–ওমান সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের অর্থনৈতিক উপস্থিতি বাড়বে। বর্তমানে ভারত ও ওমানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নতুন এই চুক্তির ফলে আগামী কয়েক বছরে বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশাবাদী নীতিনির্ধারক ও শিল্পমহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই CEPA ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধিতে নতুন গতি দেবে এবং দেশীয় শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। সাথে আরও জানিয়েছেন যে আজ স্বাক্ষরিত হতে চলা ভারত–ওমান CEPA চুক্তি শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি শক্ত ভিত গড়ে দেবে।




