Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক RBI (Reserve Bank of India) ২০২৬-২৭ অর্থবছরে খুচরো মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.১%-এ উন্নীত করেছে। এর আগে এপ্রিলের নীতিতে RBI-এর পূর্বাভাস ছিল ৪.৬%। আর এই সংশোধনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ, তেলের দামে বৃদ্ধি, দুর্বল রুপি এবং সম্ভাব্য খাদ্যদ্রব্য মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি। অন্যদিকে আবার RBI ২০২৬-২৭ অর্থবছরের GDP প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও ৬.৯% কমিয়ে ৬.৬%-এ নামিয়েছে।
RBI-এর গর্ভনর সঞ্জয় মালহোত্রা নেতৃত্বাধীন মুদ্রানীতি কমিটি বা MPC ৫জুন, ২০২৬-এর বৈঠকে রেপো রেট ৫.২৫%-এ অপরিবর্তিত রাখার সীদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নীতিনির্ধারকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। যা ভারতের আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় ভারতে এর প্রভাব বেশি পড়বে। RBI আশঙ্কা করছে যে জ্বালানি, পরিবহন, খাদ্যপণ্যের সাথে উৎপাদন ব্যয় বাড়লে আগামী কয়েক প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি ৫%-এর ওপরে ধরতে হবে।
আবার বিনিয়োগকারীদের জন্যেও এই পূর্বাভাসের আলাদা অর্থ রয়েছে। ব্যাংক আমানতকারীদের জন্য উচ্চ সুদের হার দীর্ঘ সময় বজায় থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে শেয়ারবাজারে রিয়েল এস্টেট, অটো এবং কিছু কনজিউমার খাতের মতে সুদ সংবেদনশীল (Interest Sensitive) চাপ দেখা যেতে পারে। তবে ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা খাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে, যদি সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকে। এছাড়া এই পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।




