মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমেই লক্ষ্য রাখতে হবে সঠিক স্টক বাছাইয়ের দিকে। ঝুঁকি অনুযায়ী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিভিন্ন রকম ক্যাটাগরি রয়েছে, যেমন ইক্যুইটি ও ডেট। আবার equity investment ঝুঁকিসম্পন্ন হলেও তার মধ্যেও কম ঝুঁকির বা বেশি ঝুঁকির ফান্ডও থাকে। যেমন, স্মল বা মিড ক্যাপের তুলনায় লার্জ ক্যাপ অনেকটা কম ঝুঁকির। সেইভাবেই প্রশ্ন জাগে PSU ফান্ড বা বা Public Sector Undertaking ফান্ড কি বিনিয়োগের জন্য একটি ভালো বিকল্প? PSU ফান্ডের মাধ্যমে সরকারি পাবলিক সেক্টর কোম্পানি এবং ব্যাংক স্টকগুলিতে বিনিয়োগের সুযোগ পাওয়া যায় এবং যেহেতু সরকার সমর্থিত ফান্ডগুলিতে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাওয়া যায় তাই এই ফান্ডগুলি তুলনায় কম-ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশি সুরক্ষিত একটি বিনিয়োগ।
তবে PSU মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের আগে জানতে হবে এই ফান্ড আদৌ আপনার বিনিয়োগ লক্ষ্যের সঙ্গে খাপ খায় কিনা। আজকে আমরা আলোচনা করব এই ধরনের ফান্ডের সম্ভাবনা কী বা এর সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলি কী কী।
PSU fund কী?
PSU ফান্ড হল একধরনের debt fund যেটি মূলত Public Sector undertakings, ব্যাংক, পাবলিক ফিনান্সিয়াল ইনস্টিস্টিশন ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করে। এগুলি সাধারণত চিরাচরিত বিনিয়োগের তুলনায় কম ঝুঁকিতে বেশি রিটার্ন জেনারেট করে। আগে এই ফান্ডগুলিকে short term বা income fund বলা হত। PSU মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কিছু বৈশিষ্ট্য হল––
→ নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এই ফান্ডগুলি নিজেদের corpus-এর 80% বিভিন্ন PSU কোম্পানি, ব্যাংক সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করে।
→ এই ফান্ডগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন বন্ড, ডিবেঞ্চার এবং সার্টিফিকেট অফ ডিপোজিটে বিনিয়োগ করে থাকে।
→ কম ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশি উপযোগী এই ফান্ড।
→ এই ফান্ডগুলি AAA বা সেইধরনের ডেট সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করে। ফলে বিনিয়োগকারীরা কম ভোলাটিলিটিতে স্থির প্রফিট পেতে পারেন।
→ এই ফান্ডগুলি ঝুঁকির দিক থেকে ultra-short term ফান্ডের মতো তবে এগুলির রিটার্ন income fund-এর মতো।
→ এই ফান্ডগুলি ছাড়াও বিনিয়োগকারীরা PSU ইক্যুইটি ফান্ডেও বিনিয়োগ করতে পারেন, যেগুলি এক্সচেঞ্জে লিস্টেড PSU কোম্পানির স্টকে বিনিয়োগ করে। এগুলি একধরনের open-ended fund।
PSU equity mutual fund কী:
আগেই বলা হয়েছে PSU debt fund ছাড়াও open-ended equity fund রয়েছে যেগুলি স্টক এক্সচেঞ্জে লিস্টেড public sector কোম্পানিগুলির স্টকে বিনিয়োগ করে। এই ফান্ডগুলি সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলিকে বিনিয়োগ করে। ইকোনমিক লিবারালাইজেশনের পর থেকে সরকার বেশ কিছু PSU কোম্পানি অধীকারচ্যুত করে এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করে। বিনিয়োগকারীরা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে এই কোম্পানিগুলির স্টক কিনতে পারেন।
তবে এই ফান্ডে বিনিয়োগের আগে যথেষ্ট রিসার্চ করা প্রয়োজন। কারণ বিগত কয়েক মাসে এই সেক্টরটি ভালো ফালাফল করতে পারেনি এবং এইগুলি private sector কোম্পানিগুলির মতো বিশেষ দক্ষ নয়। অনেক প্রাইভেট সেক্টর কোম্পানি PSU ও ব্যাংকিং কোম্পানিগুলির market share কমিয়ে দিয়েছে, ফলে এই সেক্টরটি বর্তমানে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সেই কারণে অনেক বিনিয়োগকারী PSU equity fund-এ বিনিয়োগ করতে চাইবেন না। তবে কিছু কিছু PSU কোম্পানি, যেগুলি ‘Maharatna’ ও ‘Miniratna’ ক্যাটাগরির অন্তর্গত, সেগুলি ভালো ফল করেছে। সেই কারণে PSU equity fund-এ বিনিয়োগ করতে চাইলে আপনি multi-cap fund-এ বিনিয়োগ করতে পারেন, যা বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন মার্কেট ক্যাপযুক্ত কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে।
কারা PSU মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করবেন?
যেহেতু এই ফান্ডগুলি কম-ঝুঁকি সম্পন্ন তাই অধিক সংখ্যক বিনিয়োগকারীর কাছে এটি একটি পছন্দের বিনিয়োগ।
→ যেহেতু এগুলি ডেট ফান্ডের একটি ধরন, তাই এগুলি খুব বেশি ভোলাটাইল হয় না এবং কনজারভেটিভ বিনিয়োগকারীদের জন্য স্টেডি রিটার্ন দেয়।
→ যেসব বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক ডিপোজিটের তুলনায় ভালো রিটার্ন চান তাঁদের জন্য PSU ফান্ড উপযোগী।
→ যে বিনিয়োগকারীরা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগে আগ্রহী তাঁরা উচ্চমানের, লিক্যুইড PSU ফান্ডে বিনিয়োগ করেন।
→ অনেক বিনিয়োগকারী চান স্বল্পমেয়াদে নিজেদের বিনিয়োগযোগ্য অর্থ উপযুক্ত কোনো ফান্ডে বিনিয়োগ করতে। তাঁরা PSU ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন কারণ এদের মেয়াদ ১-২ বছরের হতে থাকে।
PSU মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সুবিধা
PSU ফান্ডগুলি খুব লিক্যুইড। এই ফান্ডগুলি উচ্চ রেটিং যুক্ত PSU কোম্পানিতে ১-২ বছরের জন্য স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগ করে। এগুলির মার্কেট ভোলাটিলিটি কম থাকায় ঝুঁকিও কম। ব্যাংকের ফিক্সড্ ডিপোজিটের তুলনায় সামান্য বেশি রিটার্ন দেয় এই ফান্ড। আর তাছাড়াও ব্যাংকের ফিক্সড্ ডিপোজিটের তুলনায় কম মেয়াদ থাকে এই ফান্ডের।
তবে এই ফান্ডে কম ঝুঁকি থাকলেও এগুলি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। কারণ ইন্টারেস্ট রেটের কমা-বাড়ার সঙ্গে এই ফান্ডের রিটার্ন নির্ভর করছে। যেমন, বন্ডের ইল্ড বেড়ে গেলে এই ফান্ডগুলি নেগেটিভ রিটার্ন দিতে পারে।
সেই কারণে এই ফান্ডে বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য, ফান্ডের আর্থিক ফলাফল, কোন ফান্ড হাউস ও কোন ম্যানেজমেন্টের অধীনে রয়েছে ফান্ডটি, ফান্ডের এক্সপেন্স রেশিও ও অন্যান্য ফি ইত্যাদি ভালো করে যাচাই করা প্রয়োজন।





