কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আত্মপ্রকাশ করে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। কোম্পানি নিজেদের মালিকানার কিছু অংশ বিনিয়োগকারীদের প্রদান করে এবং তার বদলে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিতে অর্থ বিনিয়োগ করেন। শেয়ার বাজারে কোম্পানিগুলির আত্মপ্রকাশের জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হল IPO বা Initial Public Offering লঞ্চ করা। এছাড়াও OFS অর্থাৎ Offer For Sale-এর মাধ্যমে কোম্পানি মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। যদিও IPO ও OFS দুটি ক্ষেত্রেই কোম্পানিকে নিজের মালিকানা জনসাধারণকে প্রদান করতে হয়, তবে দুটি পদ্ধতিই একে অপরের থেকে আলাদা। আজকে আমরা আলোচনা করব OFS ও IPO কী, তাদের পার্থক্য কী এবং জানব এদের মূল বৈশিষ্ট্য।
IPO কী?
IPO পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো প্রাইভেট কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় এবং পাবলিক কোম্পানিতে পরিণত হয়। IPO লঞ্চের প্রাথমিক উদ্দেশ্যই হল কোম্পানির ইক্যুইটি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করা। কোম্পানি নতুন ইক্যুইটি শেয়ার ইস্যু অর্থাৎ ফ্রেস ইস্যু করার সিদ্ধান্ত বিভিন্ন কারণে নিতে পারে, যেমন– working capital-এর প্রয়োজন মেটাতে, ঋণ পরিশোধে ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যখনই কোম্পানি ‘private’ থেকে ‘public’ হচ্ছে তখন কোম্পানিটিকে বেশ কিছু কঠোর নিয়ন্ত্রণ বিধি এবং স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে।
OFS কী?
OFS বা Offer For Sale বিষয়টিতে কোম্পানির প্রোমোটার বা স্টেকহোল্ডাররা সুযোগ পান কোম্পানি থেকে exit করার। অর্থাৎ এই পদ্ধতির মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডাররা প্রাইমারি মার্কেটে নিজেদের স্টেক বিক্রি করে exit নিতে পারেন এবং প্রফিট বুক করতে পারেন। এখানে IPO-র মতো কোনোরকম ফ্রেস ইস্যু থাকে না। কেবলমাত্র এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে শেয়ারের মালিকানার হস্তান্তর হয়।
IPO ও OFS-এর মূল পার্থক্য:
| বিষয় | IPO | OFS |
| উদ্দেশ্য | জনগণের উদ্দেশ্যে শেয়ারের প্রাথমিক ইস্যু লঞ্চ করে মূলধন সংগ্রহ করা হয় IPO-র মাধ্যমে। | কোম্পানির বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোম্পানি থেকে exit-এর পথ এটি। এর মাধ্যমে বর্তমান শেয়ারহোল্ডাররা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করতে পারেন। |
| ঝুঁকি | অধিক ঝুঁকি। | কম ঝুঁকি। |
| খরচ | তুলনায় খরচ বেশি। | খরচ সামান্য। |
| সময় | সাধারণত ৩ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। | একটি ট্রেডিং ডে-তেই হয়ে যায়। |
| নথি | RHP বা Red Herring Prospectus জমা করতে হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এবং দীর্ঘ পেপারওয়ার্ক প্রয়োজন। | Red Herring Prospectus-এর মতো কোনো নথি জমা করতে হয় না বা অধিক পেপারওয়ার্কও নেই। |
| বিড পরিবর্তন | IPO-র ক্ষেত্রে একবার বিড জমা করার পর আর নতুন করে বিডের কোনোরকম পরিবর্তন করা যাবে না বা বিড বাতিল করা যাবে না। | OFS-এর ক্ষেত্রে বিড জমা করার পর তা বাতিল করা না গেলেও বিনিয়োগকারীরা চাইলে বিডের পরিবর্তন বা মডিফাই করতে পারেন। |
সুতরাং IPO এবং OFS দুটি ক্ষেত্রেই শেয়ার ইস্যু হয় ঠিকই, তবে দুটির মধ্যে বেশ ফারাক আছে। যেখানে IPO-তে ফ্রেস বা নতুন শেয়ার ইস্যু করা হয়, সেখানে OFS-এ existing অর্থাৎ কোম্পানির বর্তমান শেয়ারহোল্ডাররা নিজেদের স্টেক প্রাইমারি মার্কেটে বিক্রি করে প্রফিট বুক করে কোম্পানি থেকে exit করার সুযোগ পান। সেইজন্য পরবর্তীতে যখনই আপনি IPO অথবা OFS-তে বিনিয়োগ করবেন দুটির পার্থক্য বুঝে আপনার চাহিদা ও ঝুঁকির ক্ষমতা অনুযায়ী সঠিক বিষয়টি নির্বাচন করবেন।




