সাম্প্রতিক দশকে ভারতের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন কয়েকগুণ বেড়েছে। আর এর অন্যতম প্রধান কারণ দেশীয় এবং বিদেশি বহু সত্ত্বার বিনিয়োগ বৃদ্ধি। বৈশ্বিক দেশগুলি ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থান এবং বৃদ্ধি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরই দেশটিতে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়িয়েছে। FDI অর্থাৎ Foreign Direct Investment এবং FII অর্থাৎ Foreign Institutional Investment— এই দুটিই ভারতে বিনিয়োগের জনপ্রিয় বিনিয়োগ পদ্ধতি। আজকে আমরা আলোচনা করব এই দুটি বিনিয়োগ পদ্ধতি কী এবং এদের মধ্যে মূল পার্থক্য কী।
FDI কী?
FDI-এর পুরো কথা হল Foreign Direct Investment। এর অর্থ হল নিজের দেশ বাদে অন্য দেশে বিনিয়োগ করা। এই বিনিয়োগে ক্যাপিটাল ইনফ্লো সরাসরি এক দেশ থেকে অন্য দেশে হয়। অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে এই বিনিয়োগ। এবার মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে কারা FDI investor হওয়ার জন্য উপযুক্ত। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নিয়ম অনুযায়ী ভারতের বাইরে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, বিদেশি কোনো সংস্থা, কর্পোরেশন foreign direct investment করতে পারে ভারতে। যেমন, একটি আমেরিকান কোম্পানি ভারতে নিজেদের ফ্যাকরি তৈরি করলে সেটি FDI-এর উদাহরণ।
কীভাবে FDI বিনিয়োগকারীরা ভারতে বিনিয়োগ করতে পারে?
→ ভারতীয় কোনো unlisted কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারে।
→ ভারতীয় কোনো listed কোম্পানিতে post issue paid-up ইক্যুইটি ক্যাপিটালে 10% বা তার বেশি বিনিয়োগ করতে পারে।
FII কী?
FII-এর পুরো কথা Foreign Institutional Investment। এরা মূলত বড় কোম্পানি বা কোনো সংস্থা হয়ে থাকে যারা বাইরের দেশের আর্থিক বাজারে লগ্নি করে। যে দেশে foreign institutional investor-রা বিনিয়োগ করতে চায় সেই দেশের সিকিউরিটি এবং এক্সচেঞ্জ বোর্ডে নিবন্ধিত থাকতে হবে। বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী যেমন মিউচ্যুয়াল ফান্ড, হেজ ফান্ড, ব্যাংক, বিমা কোম্পানি ইত্যাদি এই বিভাগের অন্তর্গত। যখন কোনো সিকিউরিটিতে FII বিনিয়োগ করে বা বিনিয়োগ তুলে নেয় উভয় ক্ষেত্রেই বাজারের গতিবিধি এতে প্রভাবিত হয়। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে এবং বিনিয়োগ কমে এলে নিম্নমুখী হতে থাকে। বিদেশি কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ড ভারতীয় কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে সেটি FII-এর উদাহরণ।
এবার দেখে নেওয়া যাক FDI এবং FII-এর মধ্যে কী কী বিষয়ে পার্থক্য রয়েছে।
FDI এবং FII-এর পার্থক্য :
| বৈশিষ্ট্য | FDI | FII |
| সংজ্ঞা | যখন একটি দেশের একটি কোম্পানি দেশের বাইরে অবস্থিত কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে, সেই ইনভেস্টমেন্টকে FDI বলে। | যখন কোনো বিদেশি কোম্পানি নিজের দেশের বাইরের কোনো স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করে, তখন সেই বিনিয়োগকে FII বলে। |
| সত্ত্বা | Foreign direct investment কোনো দেশের কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি দ্বারা হতে পারে। | Foreign institutional investment মিউচ্যুয়াল ফান্ড, পেনশন ফান্ড, বিমা কোম্পানি, বা অন্য কোনো বড় বিনিয়োগ সংস্থা, অর্থাৎ বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা করতে পারে। |
| বিনিয়োগের ধরন | FDI হল বাইরের দেশের ফিজিক্যাল অ্যাসেটে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ। | FII হল বাইরের দেশের ফিনান্সিয়াল অ্যাসেটে স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগ। |
| উদ্দেশ্য | FDI-এর উদ্দেশ্য হল কর্মসংস্থান তৈরি, প্রযুক্তিগত জ্ঞানের বিস্তার, পরিকাঠামো উন্নয়ন ইত্যাদি। | FII মূলত বিনিয়োগের মাধ্যমে পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনে এবং রিটার্ন বাড়ানোর চেষ্টা করে। |
| জটিলতা | FDI অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত এবং এক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে এই বিনিয়োগের এন্ট্রি এবং এক্সিট বেশ জটিল। | অপরদিকে, এই ধরনের বিনিয়োগ অনেক বেশি সহজ। |
| ঝুঁকি | FDI-এর সঙ্গে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পরিবর্তন ইত্যাদি ঝুঁকি জড়িত। | অন্যদিকে, Foreign Institutional investment-এর সঙ্গে মার্কেট ভোলাটিলিটি, মুদ্রার ওঠানামা, বিনিয়োগকারীদের মনোভাব পরিবর্তন ইত্যাদি ঝুঁকি জড়িত। |
যদিও দুটি বিনিয়োগেরই সুবিধা-অসুবিধা আছে। তবুও FII থেকে FDI-কে বেশি উন্নত মনে করা হয়। FDI দেশে শুধু ক্যাপিটালই নিয়ে আসে না, তার পাশাপশি কাজের সুযোগ, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর উন্নতি, ম্যানেজমেন্টের উন্নয়ন ইত্যাদিও সম্ভব হয় FDI-এর মাধ্যমে।




