IPO বা Initial Public Offerings-এর মাধ্যমে কোনো প্রাইভেট কোম্পানি পাবলিক্যালি ট্রেড করা শুরু করে। সংস্থা যখন প্রাইভেট থেকে পাবলিক হয় তখন তার মূল উদ্দেশ্য থাকে মূলধন সংগ্রহ করা এবং জনগণের উদ্দেশ্যে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানির লিক্যুইডিটি বাড়ানো। প্রথমবার মূলধন সংগ্রহের জন্য কোম্পানিকে অবশ্যই IPO লঞ্চ করতে হয়।
IPO পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা:
কোনো কোম্পানি শেয়ার ইস্যুর বদলে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করলে, কোম্পানিটিকে অবশ্যই IPO পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। IPO-র মাধ্যমে ভারতের দুটি প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ BSE ও NSE, দুটিতেই লিস্টেড হতে পারে কোনো কোম্পানি। IPO পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে SEBI অর্থাৎ Securities and Exchange Board of India। যেহেতু এই পদ্ধতিটির নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব SEBI-র উপর রয়েছে তাই এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং যে-কোনোরকমের জালিয়াতির সম্ভাবনা অনেক কমে।
বেশ কিছু নিয়ম মেনে কোম্পানিকে IPO পদ্ধতির জন্য আবেদন করতে হয়। একটি প্রাইভেট কোম্পানি underwriter, lawyer, auditor, accountant প্রভৃতি একাধিক বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেয়।
কীভাবে IPO-এর জন্য আবেদন করা হয়?
মোটামুটি ৪ – ৬ মাস সময় লাগে IPO-র আবেদন পদ্ধতি সম্পূর্ণ হতে।
প্রথম ধাপ: প্রথম ধাপ হল একজন underwriter বা investment bank নিয়োগ করা। একটি কোম্পানির হয়ে IPO পদ্ধতি শুরু করে underwriter বা investment bank। কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারীর মাঝে মধ্যস্থতাকারীর কাজ করে এরা।
দ্বিতীয় ধাপ: SEBI-র সঙ্গে নথিভুক্তিকরণ করতে হয় দ্বিতীয় ধাপে। এই ধাপে কোম্পানিকে একটি রেজিস্ট্রেশন স্টেটমেন্ট ও একটি প্রসপেক্টাস তৈরি করতে হয়। এই নথিগুলিকে RHP বা Red Herring Prospectus বলে। কোম্পানি অ্যাক্টের নিয়ম অনুযায়ী যে-কোনো কোম্পানি, তা সেটি ছোটো হোক বা বড়ো, তাকে অবশ্যই RHP জমা করতে হয়।
RHP-র মধ্যে কোন বিষয়গুলি যুক্ত থাকে?
- Definition: এই অংশটিকে শিল্প নির্ভর কিছু শব্দ ও প্রয়োজনীয় বিষয় উল্লেখ থাকে।
- Risk factor: এই অংশে সেই সমস্ত সম্ভাবনার কথা উল্লেখ থাকে যেগুলি লিস্টিং-এর পর কোম্পানির পারফরমেন্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
- Use of proceeds: এটি প্রসপেক্টাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানায়।
- Industry description: কোম্পানিটি যে ইন্ডাস্ট্রি বা ক্ষেত্রের অন্তর্গত সেই ইন্ডাস্ট্রির পারফরমেন্স জানায় এই অংশটি। অর্থাৎ ধরুন কোনো কোম্পানি FMCG বা Fast Moving Consumer Goods সেক্টরের অন্তর্গত। তাহলে এই অংশে FMCG ক্ষেত্রটি সম্পর্কে কিছু পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
- Business description: এই অংশে কোম্পানির মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় এবং কোম্পানি কীভাবে মুনাফা অর্জন করে সেটি জানানো হয়।
- Management: কোম্পানির ডাইরেক্টর, প্রোমোটার প্রমুখ ম্যানেজমেন্টের প্রধান ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে জানানো হয় এই অংশে।
- Financial information: গত পাঁচ বছরে কোম্পানির অডিট রিপোর্ট ও আর্থিক রিপোর্ট সম্পর্কে জানা যায় এই অংশে।
- Legal and other information: কোম্পানি বা কোম্পানির ডাইরেক্টর, প্রোমোটার সম্পর্কে বৈধ তথ্য দেয় এই অংশ।
তৃতীয় ধাপ: এই ধাপে SEBI-র দ্বারা বিষয়টি যাচাই করা হয়। কোম্পানি তার প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা করার পর সেবি এই তথ্যগুলিকে যাচাই করে এবং ৬০ দিনের মধ্যে নিজের মতামত জানায়। এই মতামতের মধ্যে সেবির যদি কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাস্য থাকে সেটি রিভাইস বা পুনরায় একটি RHP জমা করে কোম্পানিকে মেটাতে হয়। পরবর্তীতে সেবির কোনো প্রশ্ন না থাকলে আবেদন অনুমোদিত হয়। অর্থাৎ এরপর কোম্পানি IPO লঞ্চের তারিখ ঘোষণা করতে পারে।
চতুর্থ ধাপ: এরপর কোম্পানিকে স্টক এক্সচেঞ্জে আবেদন করতে হবে যেখানে কোম্পানি প্রাথমিকভাবে লিস্ট হতে চায়।
পঞ্চম ধাপ: এই ধাপে সপ্তাহ দুয়েক ধরে কোম্পানিকে আসন্ন IPO সম্পর্কে সারা দেশের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জানাতে হয়। ব্যবসায়িক বিশ্লেষক ও ফান্ড ম্যানেজারদের সঙ্গে কোম্পানির মূল বিষয়গুলি জানানো হয়।
ষষ্ঠ ধাপ: ষষ্ঠ ধাপে শীর্ষ মার্চেন্ট ব্যাংকার শেয়ারের দাম স্থির করে, হয় স্থির দাম বা একটি সীমার মাধ্যমে দাম প্রকাশ করা হয়। Fixed বা স্থির দামে কোম্পানির স্টকের স্থির একটি দাম জানানো হয় এবং book building পদ্ধতিতে একটি range বা মূল্যসীমা ঠিক করা হয়।
সপ্তম ধাপ: IPO-র দাম স্থির হওয়ার পর, underwriter ঠিক করে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর জন্য কটি করে ন্যূনতম শেয়ার অ্যালট করা হবে।
IPO সম্পর্কে আলোচনা শেষে বোঝা যাচ্ছে এটি কোনো কোম্পানি বা ব্যবসাকে মূলধন সংগ্রহে সাহায্য করে। এছাড়াও বর্তমান শেয়ারহোল্ডাররাও শেয়ার বিক্রির সুযোগ পান। কোম্পানি আকার বা ধরন যা-ই হোক, কোম্পানিকে অবশ্যই SEBI-র কাছে তথ্য জমা করতে হয়। এই তথ্যগুলিতে কোম্পানি সম্পর্কে আর্থিক ও আইনি তথ্য উল্লেখ থাকে।





