যে-কোনো ইনসিওরেন্স কোম্পানি নির্বাচনের জন্য শুধুমাত্র তাদের প্রিমিয়ামের টাকা ও কভারেজ অপশনগুলির মধ্যে তুলনা করলেই চলবে না। বাজারে এত বিমা কোম্পানির উপস্থিতি থাকায় কোন্ বিমা কোম্পানি নিজেদের প্রতিশ্রুতি ঠিকমতো পালন করবে সেটা বোঝাটাও সমানভাবে দরকার। বিমা করানোর সময়ে কোম্পানি যে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেয় সেগুলো যথাযথ পূরণ করে কি না তা জানতে কোম্পানির একটি মেট্রিক সাহায্য করে।
সেটিকে claim settlement ratio বা CSR বলে। অন্যদিকে আরও একটি মেট্রিক যা বিমা কোম্পানির solvency বা আর্থিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেয় তাকে solvency ratio বলে। এই দুই রেশিও নিশ্চিত করে কোম্পানিটি নিজেদের করা ক্লেমগুলি কতটা মানছে এবং দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানি আর্থিক দিক থেকে কতটা সচ্ছল থাকবে। আজকে আমরা জানব এই দুই মেট্রিক সম্পর্কে এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি রেশিও সঠিক বিমা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তা-ও জানব।
Claim Settlement Ratio কী?
একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো ইনসিওরেন্স কোম্পানির কাছে যতগুলি ক্লেম আসে তার মধ্যে কোম্পানিটি যতগুলি ক্লেম সেটেল করে তার percentage বা শতকরা হিসাবকেই CSR বা Claim Settlement Ratio বলে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে, যদি কোনো বিমা কোম্পানির কাছে বছরে ১০০০ টি ক্লেম জমা পড়ে এবং কোম্পানিটি দেখা গেল তার মধ্যে ৯২০ টি ক্লেম মেটাতে পারল বা settle করল তাহলে কোম্পানিটির Claim Settlement Ratio হবে 92%।
Claim Settlement Ratio কেন গুরুত্বপূর্ণ?
→ বিশ্বাসযোগ্যতা: কোনো বিমা কোম্পানির CSR বেশি হলে বুঝতে হবে কোম্পানিটি নির্ভরযোগ্য এবং এরা এদের বেশিরভাগ ক্লেম মেটাতে সক্ষম। এতে কোম্পানি সম্পর্কে পলিসিগ্রাহকদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয় এবং তাঁরা মনে করেন তাদের ক্লেমও কোম্পানি সময়ের মধ্যে সেটেল করবে।
→ গ্রাহক সন্তোষ: Claim Settlement Ratio বেশি হওয়ার অর্থ হল কোম্পানির গ্রাহক পরিষেবা উন্নত এবং কোম্পানিটির প্রতি গ্রাহকেরা সন্তুষ্ট।
→ দ্রুত সেটেলমেন্ট: CSR বেশি হলে সেটি পলিসিহোল্ডারদের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়, কারণ সেক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় বিমা কোম্পানিটি নিজেদের কাছে জমা পড়া ক্লেমগুলি দ্রুততার সঙ্গে প্রসেস করে এবং ক্লেমের টাকা দ্রুত মেটায়। ফলে Claim Settlement Ratio বেশি হলে গ্রাহকরা নিশ্চিত থাকেন যে, যে-কোনো জরুরি ভিত্তিতে কোনোরকম আর্থিক প্রয়োজনীয়তায় তাঁরা তাঁদের ক্লেমের টাকা সঠিক সময়ে পেয়ে যাবেন।
→ Solvency Ratio কী?
বিমা কোম্পানি নিজেদের গ্রাহকের কাছে আর্থিক দিক থেকে দায়বদ্ধ। ফলে কোম্পানি নির্বাচনের সময়ে অবশ্যই দেখতে হবে দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানিটির আর্থিক পরিস্থিতি কেমন থাকবে। Solvency ratio দেখায় যে দীর্ঘমেয়াদের দাবিদাওয়াগুলি কোম্পানি কতটা আর্থিক দক্ষতার সঙ্গে পূরণ করতে পারে। বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা Regulatory and Development Authority of India বা সংক্ষেপে IRDAI-র নিয়ম অনুযায়ী বিমা কোম্পানিগুলির ন্যূনতম solvency ratio 1.5 হতেই হবে।
কেন Solvency ratio গুরুত্বপূর্ণ?
→ কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি: Solvency ratio বেশি হওয়ার অর্থ নিজেদের কঠিন পরিস্থিতিতেও কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি মজবুত এবং তারা বেশি সংখ্যক ক্লেমও সহজেই মেটাতে সক্ষম।
→দীর্ঘমেয়াদি বুনিয়াদ: Solvency ratio বেশি মানেই কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদে সচ্ছল থাকবে এবং নিজেদের কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারবে যাতে গ্রাহকরা দীর্ঘসময় ধরে কভারেজের সুবিধা পান।
→ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বাধ্যবাধকতা: IRDAI-এর ন্যূনতম solvency ratio-র মান প্রতিটি বিমা কোম্পানিকে মেনে চলতে হবে। যদি কোনো কোম্পানির solvency ratio ন্যূনতম মানের থেকেও বেশি হয়, তাহলে সেটি কোম্পানির দুর্দান্ত আর্থিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
কোম্পানির CSR ও SR সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন কীভাবে?
একাধিক উপায় রয়েছে তার জন্য। IRDAI বার্ষিক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে যেখানে ভারতের প্রতিটি বিমা কোম্পানির Claim Settlement Ratio ও Solvency Ratio উল্লেখ থাকে যা আপনি তাদের website-এ পেয়ে যাবেন। আবার অনেক কোম্পানি নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে Claim Settlement Ratio-র কথা উল্লেখ করে। এগুলি ছাড়াও news portal বা বেশ কিছু ওয়েবসাইট যারা বিভিন্ন বিমা কোম্পানির মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য দেখায় তারাও CSR-এর তথ্য প্রকাশ করে।
আর অন্যদিকে Solvency Ratio-র জন্য কোম্পানি নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রতি বছর নিজেদের আর্থিক বিবৃতি প্রকাশ করে, এবং সাধারণত সেগুলি ওয়েবসাইটের ‘Investor Relations’ বা ‘Financial Information’ বলে সেকশনগুলির মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও কতৃপক্ষের কাছে বিমা কোম্পানিগুলি নিজেদের disclosure document জমা করে, সেখানেও solvency ratio-র উল্লেখ থাকে যা IRDAI-এর নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেখা যায়।
আলোচনা শেষে বোঝা গেল বিমা কোম্পানি সম্পর্কে নিখুঁত তথ্য জানতে এই দুটি রেশিওর গুরুত্ব কতখানি। শুধুমাত্র সস্তা প্রিমিয়াম না দেখে কোম্পানির Claim Settlement Ratio এবং Solvency Ratio-র মতো আর্থিক মানদণ্ডগুলিও দেখা প্রয়োজন যাতে কোম্পানি আপনার ক্লেম কত দ্রুত মেটাতে পারবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি কেমন থাকবে বোঝা যায়। তার পাশাপাশি বিমা করানোর সময়ে নিজের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত কোনো পরিস্থিতির কথাই কোম্পানির থেকে আড়াল করবেন না। কারণ বর্তমানে আপনি নিজের বেশ কিছু তথ্য আড়াল করে হয়তো সস্তায় প্রিমিয়াম পাবেন তবে আসলে ক্লেম নেওয়ার সময়ে কোম্পানি যদি তথ্যের মধ্যে কোনোরকম গড়মিল পায় তাহলে Claim Settlement Ratio high হলেও আপনার ক্লেম কিন্তু বাতিল হয়ে যাবে।





