বিগত কয়েক দশকে ব্যবসা পরিচালনা করার পদ্ধতির মধ্যে অনেক দিক থেকে পরিবর্তন এসেছে, এবং তার অন্যতম কারণ হল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি। তবে ব্যবসায় অনেক পরিবর্তন এলেও যে জিনিসটি একই আছে সেটি হল মূলধনের চাহিদা। বর্তমানের কোনো ব্যবসায়িক কাজ হোক বা ভবিষ্যতের কোনো প্রোজেক্ট— যে-কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে মূলধন অতিপ্রয়োজনীয়। তবে মূলধন জোগান বা সংগ্রহের অনেক রাস্তাও রয়েছে। কোনো কোম্পানি দুটি উপায়ে সাধারণের থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে— equity IPO এবং debt IPO।
Equity IPO কী?
যখন কোনো প্রাইভেট কোম্পানি প্রথমবার মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আত্মপ্রকাশ করে তাকে Equity IPO বলে। যে-কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে পাবলিক কোম্পানিতে পরিণত হওয়া এবং নিজেদের শেয়ার এক্সচেঞ্জে লিস্ট হওয়া ও ট্রেড করার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন IPO লঞ্চ করা। দুভাবে কোনো কোম্পানি জনগণের কাছে শেয়ার ইস্যু করতে পারে—
এক, fixed price issue
দুই, Book building issue
→ Fixed Price Issue: এই ধরনের ইক্যুইটি IPO-তে ইস্যুকারী কোম্পানি একটি নির্দিষ্ট দামে জনগণের কাছে শেয়ারের আবেদন করে।
→ Book Building Issue: এই ধরনের ইস্যুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো দামের বদলে একটি মূল্যসীমা রাখা হয় শেয়ারের জন্য। বিনিয়োগকারীরা সেই priceband বা মূল্যসীমার মধ্যে যে-কোনো দামে শেয়ারের জন্য আবেদন করতে পারেন। Equity IPO পদ্ধতি সম্পন্ন হওয়ার পর শেয়ার অ্যালট করা হয়। এরপর ইস্যুকারী কোম্পানির শেয়ার এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় যেখানে চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে শেয়ারের দাম স্থির হয়।
Debt IPO কী?
Equity IPO ছাড়াও আরও একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে কোম্পানি অর্থ সংগ্রহ করতে পারে, সেটি হল debt IPO। যখন কোম্পানি ইক্যুইটির বদলে ডেট বা ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের কথা ভাবে তখন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডিং-এ কোনোরকম পরিবর্তন হয় না। Debt financing-এর মাধ্যমে ইনভেস্টররা কোম্পানির NCD অর্থাৎ Non Convertible Debenture-এ বিনিয়োগের সুযোগ পান এবং মেয়াদ পূর্ণ হওয়া অবধি স্থির সুদের সুবিধা পেতে থাকেন। সাধারণ স্থির আয়ের অন্যান্য চিরাচরিত বিকল্প থেকে NCD-র রিটার্ন সাধারণত বেশি হয়।
দুটি প্রধান ধরনের NCD বা Non-Convertible Debenture আছে—
এক, Secured বা সংরক্ষিত NCD।
দুই, Unsecured বা অসংরক্ষিত NCD।
→ Secured NCD: এই ধরনের NCD ইস্যুকারী কোম্পানির অ্যাসেট দ্বারা সিকিওরড হয়। সেইজন্য এইরকম NCD-কে অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি বিনিয়োগ ধরা হয়ে থাকে।
→ Unsecured NCD: Unsecured NCD-র ক্ষেত্রে কোনো জামানত থাকে না। তবে নিজের বিনিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে স্থির সুদের হারে বিনিয়োগকারীরা সুদ পেয়ে থাকেন।
বিনিয়োগকারীকে রেজিস্টার্ড স্টক ব্রোকারের মাধ্যমে debt IPO-তে বিনিয়োগ করতে হয়। NCD একবার অ্যালট হওয়ার পর আবেদনকারীর ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হয়ে যায়।
Equity IPO ও Debt IPO-র মূল পার্থক্য
ইক্যুইটি এবং debt— দুটির মাধ্যমেই কোম্পানিগুলি জনসাধারণের থেকে অর্থসংগ্রহ করতে পারে। তবে দুটি বিনিয়োগ পদ্ধতির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে—
| বৈশিষ্ট্য | Equity IPO | Debt IPO |
| অন্তর্নিহিত সম্পদ | Equity IPO-র ক্ষেত্রে কোম্পানি নিজেদের ইক্যুইটি শেয়ার ইস্যু করে। | Debt IPO-তে ইস্যুকারী কোম্পানি NCD বা Non-Convertible Debenture ইস্যু করে। |
| খরচ | Equity IPO-র জন্য অনেক বেশি প্রচার ও বিজ্ঞাপন করতে হয়। ফলে এই ধরনের IPO-তে ভালোরকম খরচ হয় কোম্পানির। | অন্যদিকে, equity IPO-র তুলনায় অনেকটাই কম খরচ হয় debt IPO-তে। |
| শেয়ারহোল্ডিং-এ প্রভাব | কোম্পানি যেহেতু শেয়ার ইস্যু করে তাই শেয়ারহোল্ডিং বাড়ে। | Debt IPO-তে শেয়ারহোল্ডিং-এ কোনো পরিবর্তন হয় না। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির অংশীদার হন না। |
| রিটার্ন | রিটার্নের কোনো স্থায়ী নিশ্চয়তা নেই। যদিও মূলধন বৃদ্ধি অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের ক্যাপিটাল অ্যাপ্রিসিয়েশন ও ডিভিডেন্ড পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। | Debt IPO-র মাধ্যমে কোনো বিনিয়োগকারী যদি NCD-এ বিনিয়োগ করেন তাহলে ডিবেঞ্চারের সম্পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত নির্দিষ্ট হারে সুদ পাবেন বিনিয়োগকারীরা। |
| ঝুঁকি | যেহেতু Equity বিনিয়োগে বেশি ঝুঁকির কারণে বেশি রিটার্নের সুযোগ থাকে, তাই এই IPO-তেও অত্যধিক ঝুঁকি যুক্ত থাকে। শেয়ার লিস্ট হওয়ার পর কী দামে ট্রেড করবে বা ভবিষ্যতে কেমন ফলাফল করবে, সেটি অনিশ্চিত। | Debt IPO তুলনায় অনেক কম ঝুঁকিসম্পন্ন। কারণ যখন কোনো কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়, সেই সময় equity-র দায়বদ্ধতা মেটানোর আগে ঋণের দায়বদ্ধতা মেটাতে হয়। সেইজন্য এই ধরনের বিনিয়োগ কম ঝুঁকির হয়ে থাকে। |
ডেট এবং ইক্যুইটি আইপিও দুটির মধ্যেই সুবিধা, ঝুঁকি, রিটার্ন আলাদা আলাদা হয়। ফলে যেখানেই বিনিয়োগ করুন, আগে পর্যাপ্ত রিসার্চ করা জরুরি।





