Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের দ্রুতবর্ধনশীল ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম Meesho এবার শেয়ারবাজারে পা রাখতে চলেছে। ডিসেম্বর ৩ তারিখে শুরু হচ্ছে সংস্থার বহু প্রতীক্ষিত ৫,৪২১ কোটি টাকার IPO, যার প্রাইস ব্যান্ড নির্ধারণ হয়েছে ১০৫ টাকা থেকে ১১১ কোটি টাকা। শেয়ারের লিস্টিং আশা করা হচ্ছে ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে হবে। আর এই প্রাথমিক পাবলিক অফার বাজারে আসার পর কোম্পানির ভ্যালুয়েশন দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৫০,০৯৬ কোটি টাকায়। যা Meesho-কে ভারতের অন্যতম বড় টেক-ইউনিকর্ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। কিন্তু বাজারের বড় প্রশ্ন: এই IPO কি প্রত্যাশা পূরণ করবে? আর AI-নির্ভর কৌশল কি সত্যিই Meesho-কে লাভজনক পথে তুলতে পারবে?
কিছু বিশ্লেষকরা বলছেন, Meesho যদি গতানুগতিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে, তাহলে এটি দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল দিতে পারে। তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য আগে থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি, কারণ ই-কমার্সের প্রতিযোগিতা তীব্র এবং মুনাফা (profitability) আনা সহজ নয়। অন্যদিকে বেশকিছু বিশ্লেষকদের দৃষ্টি এখন Meesho-র নতুন স্ট্র্যাটেজির দিকে। সংস্থা জানিয়েছে, AI, ক্লাউড টেকনোলজি, ও প্রযুক্তি টিম শক্তিশালী করতে IPO থেকে পাওয়া মোটের থেকে ৪৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। যার লক্ষ্য থাকবে প্ল্যাটফর্মে বিক্রেতাদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট আরও দ্রুত করা এবং লজিস্টিক অপারেশন আরও দক্ষ করা।
Meesho সম্প্রতি বহু নতুন ব্যবসা বিভাগ চালু করেছে। আর সেগুলি হোম ও লাইফস্টাইল সেগমেন্ট, গ্রোসারি এক্সপেরিমেন্ট, এবং আরও বিস্তৃত ফ্যাশন ক্যাটাগরির, যা কোম্পানির আয়ের নতুন রাস্তা খুলতে পারে। গত কয়েক বছরে Meesho-র দ্রুত গ্রাহক বৃদ্ধি ও কম খরচের “asset-light” মডেল বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করেছে। তবে সংস্থার লাভজনক হওয়া এখনও বড় চ্যালেঞ্জ, বিশেষত তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে Flipkart ও Amazon-এর মতো জায়ান্টদের সঙ্গে লড়াই করার বিষয়। তবুও ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোম্পানির AI-নির্ভর অপারেশনাল দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা এবং ছোট শহরের বিপুল গ্রাহকঘাঁটিকে টার্গেট করা Meesho-র দীর্ঘমেয়াদি আয়-সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।




