Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের শেয়ারবাজার থেকে বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারী বা FPI ২০২৬ সালের এই পর্যন্ত প্রায় ২.২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি অর্থ তুলে নিয়েছে, বা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিমধ্যেই আউটফ্লোয়ের পরিমাণ ২০২৫ সালের প্রত্যাহারকে ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে ভারতীয় শেয়ারবাজারে চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং এবং IT সেক্টরে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিক্রির প্রবণতা বেশী দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা বা DII ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে কিছুটা হলেও বাজারকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘসময় উচ্চ অবস্থান থাকার আশঙ্কা, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ভারত সহ উদীয়মান বাজার থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে উৎসাহিত করছে। অন্যদিকে আবার চীন ও কিছু উন্নত বাজারে তুলনামূলক কম দামে শেয়ার পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের দিক পরিবর্তন হয়েছে। অবশ্য অভ্যন্তরীণ তথ্য বলছে, ভারতী বাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে SIP বিনিয়োগ বাড়তে থাকায় ভারতীয় বাজারে অভ্যন্তরীণ সমর্থন এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে যে, এই প্রবণতা কবে বদলাবে? অর্থাৎ বিদেশী বিনিয়োগ কবে থেকে আবার দেশে ফিরতে পারে? বিশ্লেষকরা জানাচ্ছে, কয়েকটি বড় কারণে ভারতে FPI প্রবাহ ফিরে আসতে পারে। আর সেগুলি হল–
- যদি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেয়, তাহলে ডলারের চাপ কমবে এবং বিদেশী অর্থ আবার উদীয়মান বাজারে ফিরে আসতে পারে।
- ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যদি শক্তিশালী থাকে এবং কর্পোরেট আয় বাড়তে থাকে, সেক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীরা আবার ভারতমুখী হতে পারেন।
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অবস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।




