Article By – সুনন্দা সেন

আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়তেই সোনার ফিউচার্স দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) ১০ গ্রামে সোনার ফিউচার্স মূল্য ১.৩৮ লক্ষ টাকার উপরে উঠে সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে রুপোর দামেও দেখা গিয়েছে তীব্র উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে যার কারণে রুপোও পৌঁছে গিয়েছে লাইফটাইম হাইতে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। আর সেগুলি হলো,
- প্রথমত, মার্কিন সুদের হার কমার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের সোনার দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে। সুদের হার কমলে বন্ড ও ডলারের আকর্ষণ কমে যায়, ফলে সোনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
- দ্বিতীয়ত, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা ও রুপোর চাহিদা বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ডলারের দুর্বলতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির ধারাবাহিক সোনা কেনার প্রবণতা এই মূল্যবৃদ্ধিকে আরও জোরালো করেছে। বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি তাদের রিজার্ভে সোনার অংশ বাড়াচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে। রুপোর ক্ষেত্রেও শুধু নিরাপদ বিনিয়োগ নয়, শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা বড় ভূমিকা পালন করছে। সৌর শক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে রুপোর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রুপোর দামেও ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
ভারতের বাজারে এই রেকর্ড দামের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গয়নার বিক্রিতে। দাম বেশি হওয়ায় স্বল্পমেয়াদে চাহিদা কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বিনিয়োগকারীদের একাংশ এখনও সোনাকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ সম্পদ হিসেবেই দেখছেন।




