Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫ সাল ভারতের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক বাজারে IPO- এর অভূতপূর্ব গতির জন্য চলতি বছরে ভারতীয় সংস্থাগুলি রেকর্ড ১.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা তহবিল সংগ্রহ করেছে। এর আগে কোনও বছর এত বড় অঙ্কের অর্থ IPO-এর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়নি। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্থিতিশীল নীতিগত পরিবেশ এবং বিপুল ঘরোয়া বিনিয়োগই এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। এই বছর ১০০-র বেশি সংস্থা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। স্টার্টআপ থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী শিল্প সংস্থা—সব ক্ষেত্রেই IPO-র প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
এছাড়া প্রযুক্তি, ফিনটেক, রিটেল, উৎপাদন এবং অবকাঠামো—এই সব সেক্টর থেকে বড় আকারের IPO এসেছে। অনেক সংস্থা নতুন প্রকল্পের জন্য মূলধন তুলেছে, আবার অনেক উদ্যোক্তা ও প্রাইভেট ইক্যুইটি বিনিয়োগকারী OFS-এর মাধ্যমে আংশিক এক্সিট নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরোয়া বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বিমা সংস্থা ও খুচরা বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ IPO বাজারকে শক্ত ভিত দিয়েছে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উপর আস্থা রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে বহু IPO অতিরিক্ত সাবস্ক্রিপশন পেয়েছে।
তবে এই সাফল্যের মাঝেও একটি বাস্তব দিক রয়েছে। তালিকাভুক্তির পর সব IPO ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। কিছু সংস্থার শেয়ার এখনও ইস্যু দামের নিচে লেনদেন করছে। এতে স্পষ্ট যে IPO বুম থাকলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাছাই করে বিনিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। আগামী দিনের দিকে তাকালে বাজার বিশেষজ্ঞদের মত বলছে, ২০২৬ সালেও IPO বাজারের গতি বজায় থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই বহু সংস্থা নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি অর্থনৈতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকে, তাহলে আগামী বছরেও প্রাথমিক বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।




