Article By – সুনন্দা সেন

২০২৬ সাল ভারতের প্রাইমারি মার্কেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। টানা কয়েক বছর শক্তিশালী আইপিও বাজারের পর, আগামী বছরে শেয়ারবাজারে নাম লেখাতে পারে একাধিক বড় কর্পোরেট ও স্টার্টআপ সংস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে IPO ক্যালেন্ডার আরও জমজমাট হবে, আর বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে কয়েকটি হাই-প্রোফাইল নাম। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে রিলায়েন্স জিও প্ল্যাটফর্মস। মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন এই ডিজিটাল ও টেলিকম জায়ান্ট ২০২৬ সালে IPO আনতে পারে বলে বাজারে জোর জল্পনা।
জিও ইতিমধ্যেই টেলিকম, ডিজিটাল পরিষেবা এবং এন্টারপ্রাইজ সলিউশনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এই IPO ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। এরপরেই রয়েছে ফোনপে। ডিজিটাল পেমেন্ট ও ফিনটেক সেক্টরের বড় নাম ফোনপে ইতিমধ্যেই ভারতে পুনরায় ডোমিসাইল বদল করে IPO- এর প্রস্তুতি নিয়েছে। UPI লেনদেনে পক্ত দখল, বড় ইউজার বেস এবং নতুন আর্থিক পরিষেবার বিস্তারের কারণে ২০২৬ সালে ফোনপের IPO বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
তালিকার তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ নাম জেপ্টো। কুইক-কমার্স সেক্টরের এই স্টার্টআপ দ্রুত ডেলিভারি মডেলের জন্য পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বড় অঙ্কের ফান্ডিং তোলার পর, জেপ্টো ২০২৬ সালে শেয়ারবাজারে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে লাভজনকতা ও খরচ নিয়ন্ত্রণই এই IPO- এর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মূল বিচার্য বিষয় হবে। এছাড়াও, ফ্লিপকার্ট ২০২৬ সালে IPO আনার পরিকল্পনা করতে পারে বলে বাজারে আলোচনা রয়েছে। ওয়ালমার্ট-সমর্থিত এই ই-কমার্স জায়ান্ট বহু বছর ধরেই তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। যদি এই IPO আসে, তাহলে এটি প্রযুক্তি ও ই-কমার্স সেক্টরের জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে পারে।
তালিকার সবশেষে রয়েছে OYO। হসপিটালিটি সেক্টরের এই কোম্পানি আগে একাধিকবার IPO- এর পরিকল্পনা করলেও বাজার পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে যায়। বর্তমানে ব্যবসার স্থিতিশীলতা ও লাভজনকতার দিকে জোর দেওয়ায় ২০২৬ সালে ফের IPO আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সাল হতে পারে ভারতের আইপিও বাজারের জন্য এক টার্নিং পয়েন্ট। বড় কর্পোরেট থেকে নতুন প্রজন্মের স্টার্টআপ—সবাই শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।




