Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫ সালের এই পর্যন্ত বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী (FPI / FII) প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১.৫৫ লক্ষ কোটি টাকা অর্থাৎ লক্ষাধিক কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। জুন–নভেম্বরের মধ্যে এবং বিশেষ করে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ১১,৮২০ কোটি-র শেয়ার বিক্রি দেখেছে ভারতীয় ইক্যুইটি বাজার। এর আগে বছরের প্রথম ১১ মাসে তারা প্রায় ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে ছিল। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, রূপির মুল্যতে সাম্প্রতিক দুর্বলতা ও রুপি-ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়ায়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন ভারতের শেয়ার কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়েছে।
তাছাড়া, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক সুদের হার বাড়া, এবং ভবিষ্যতে মুনাফার বিষয়ে অনিশ্চয়তা; সব মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়িয়ে শুধু বাজার ছেড়ে যাচ্ছেন। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো শেয়ারগুলোর মূল্য এবং কোম্পানিগুলির আয়ে নিম্নগতি। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, গত দুই–তিন বছরে শেয়ারপ্রাইস বাড়লেও, কোম্পানিগুলোর বাস্তব আয় (earnings) সেই ভাবে বাড়েনি, ফলে “মূল্য-অতিমূল্যায়ন (overvaluation)” যুক্ত হয়ে পড়েছে। এই অতিরিক্ত পুঁজিবাহি বাজারে অস্থিরতার সৃষ্টি করছে। শেয়ার-মূল্য ওঠা-নেমা করছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। মুদ্রাস্ফীতি, আমদানি-রফতানি ব্যয় বৃদ্ধি, রূপি দুর্বলতা; এসব অর্থনৈতিক শঙ্কা সাধারণ মানুষের জন্যও ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন সময় হয়েছে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকারীদের (ডোমেস্টিক এবং ক্ষুদ্র–মধ্যবিত্ত বিনিয়োগকারীদের) দিক সুবিধার ও সুযোগের দিকে অগ্রসর হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোরও উচিত এমন নীতি নেওয়া, যাতে বিদেশি পুঁজির ওঠা-নেমা বা মুদ্রার ওঠানামা ভারতীয় অর্থনীতিকে বেশি প্রভাবিত না করে। বিনিয়োগ শুধু কেটে-ছেঁটে নয়, আরও স্থায়ী, দেশীয় অর্থায়ন, শিল্প এবং উৎপাদনের দিকে গঠনমূলক অবস্থান গড়া দরকার বলে মনে করছেন।




