Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের পুঁজিবাজারে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান BofA Global Research–এর এক শীর্ষ বিশ্লেষক জানিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের প্রধান শেয়ার সূচক Nifty 50, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সূচক S&P 500–কে রিটার্ন বা বাজারদৌড়ে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন মূল্যায়ন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতের বাজারকে নতুনভাবে তুলে ধরছে। BofA–র মতে, ভারতের কর্পোরেট উপার্জন গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে এবং আগামী দুই বছরেও একই গতি বজায় থাকবে।
বিশ্লেষক আমিশ শাহ জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষে Nifty 50 পৌঁছাতে পারে ২৯,০০০ পয়েন্ট–এর কাছাকাছি। বর্তমান দরের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য উত্থান। তিনি বলেন, “ভারতের লার্জ-ক্যাপ কোম্পানিগুলির আয়ের ভিত্তি এখন আগের তুলনায় অনেকই শক্তিশালী এবং আগামী কয়েক বছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও স্পষ্ট হবে। এই বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, Nifty–র এই সম্ভাব্য উত্থানের মূল চালিকা শক্তি হবে earnings growth অর্থাৎ কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি। বাজারে বিশেষ কোনও ‘ভ্যালুয়েশন বুম’ বা অতিরিক্ত মূল্যায়ন বৃদ্ধি দেখা না গেলেও, শক্তিশালী উপার্জনই সূচককে ধীরে ধীরে উপরে তুলতে পারে। পাশাপাশি, ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া বৃহৎ অর্থনীতি, এটিও বাজারকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে S&P 500 যদিও ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী সূচক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু মার্কিন অর্থনীতি সুদের হার, মুদ্রাস্ফীতি এবং প্রযুক্তি খাতের ওঠানামার মতো নানা চাপে রয়েছে। ফলে, আগামী দুই বছরে স্থিতিশীল এবং আয়নির্ভর বাজারগুলি তুলনামূলক ভালো ফল করতে পারে, এমনটাই মনে করছে BofA। তবে তারা সতর্ক করেছে যে, ভারতের ছোট এবং মাঝারি মাপের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তাই আগামীর বাজারে লার্জ-ক্যাপ শেয়ারই হবে মূল চালিকাশক্তি। পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হওয়া, বিদেশি পুঁজি প্রবাহের ওঠানামা এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি; এই সব ক্ষেত্রেই সতর্ক থাকতে হবে বিনিয়োগকারীদের।




