Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের ই-কমার্স সেক্টরে আজ একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম Meesho তার IPO বা প্রাথমিক শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে প্রবেশ করেছে এবং লিস্টিংয়ের দিন থেকেই শেয়ার শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। IPO‑র প্রাথমিক দাম ছিল প্রতি শেয়ার ১১১ টাকা। কিন্তু আজ NSE-এ শেয়ার লিস্ট হওয়ার সময় দাম লাফিয়ে গিয়ে ১৬২.৫০ টাকা এবং BSE-এ ১৬১.২৬ টাকায় লিস্ট হয়েছে। এর ফলে IPO দামের তুলনায় শেয়ার প্রায় ৪৫%‑৪৬% প্রিমিয়াম দেখিয়েছে। Meesho এই IPO থেকে মোট ৫,৪২১ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করেছে, যা নতুন শেয়ার ইস্যু এবং বিদ্যমান শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে।
IPO-এর আগে “anchor” বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে প্রায় ২,৪৩৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শক্তিশালী লিস্টিং এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কোম্পানির প্রতি বাজারের আস্থা প্রমাণ করে। Meesho মূলত ভারতের ভ্যালু-সেন্সিটিভ গ্রাহক এবং ছোট-বড় উদ্যোক্তাদের জন্য সহজলভ্য, সস্তা পণ্য সরবরাহ করে। এর ফলে, টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরের বাজারে কোম্পানির প্রসার সম্ভাবনা বড়। IPO থেকে পাওয়া তহবিল ব্যবহার করা হবে প্রযুক্তি, লজিস্টিক, AI-ভিত্তিক সেবা এবং মার্কেটিং সম্প্রসারণে। যদিও IPO‑র সূচনা অত্যন্ত সাফল্যজনক, কিছু সতর্কতাও রয়েছে।
Meesho এখনও লাভজনক কোম্পানি নয় এবং নেট লস রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, কোম্পানি কি তার পরিকল্পনা অনুযায়ী আয় বাড়াতে এবং শেয়ার মূল্য ধরে রাখতে পারবে কিনা। এছাড়া বাজার প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিয়েও মনোযোগ দিতে হবে। সংক্ষেপে বলা যায়, Meesho–র IPO আজ দেশের ই-কমার্স ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দীর্ঘমেয়াদী লাভ ও বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কোম্পানির কার্যকর রূপান্তর, প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ এবং প্রসার অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। এই IPO ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




