Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের জনপ্রিয় বাইক-ট্যাক্সি প্ল্যাটফর্ম র্যাপিডো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি শুরু করেছে। আর সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতারা ‘প্রোমোটার’ বা উদ্যোক্তা তকমা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি-ভিত্তিক সংস্থাগুলির মধ্যে এই প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে, যেখানে প্রতিষ্ঠাতারা নিজেদের প্রোমোটার না দেখিয়ে পেশাদার ব্যবস্থাপনা কাঠামোর দিকে ঝুঁকছেন। ভারতের প্রচলিত কর্পোরেট কাঠামোয় ‘প্রোমোটার’ বলতে সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বহু স্টার্টআপ IPO- এর আগে এই পরিচয় থেকে সরে এসে নিজেদেরকে পেশাদার ব্যবস্থাপনার অধীনে পরিচালিত সংস্থা হিসেবে উপস্থাপন করছে। র্যাপিডোর ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য কর্পোরেট গভর্ন্যান্স বা পরিচালন কাঠামোকে আরও স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করা। প্রোমোটার ট্যাগ সরিয়ে দিলে সংস্থাটি বোর্ড-চালিত এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনা-নির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাজারে বার্তা দিতে পারে। এতে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
র্যাপিডো গত কয়েক বছরে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাইক-ট্যাক্সির পাশাপাশি অটো এবং ক্যাব পরিষেবাতেও তারা বিস্তার ঘটিয়েছে। প্রতিযোগিতাপূর্ণ রাইড-হেইলিং বাজারে ওলা ও উবারের মতো বড় সংস্থার সঙ্গে টক্কর দিচ্ছে র্যাপিডো। এই প্রেক্ষাপটে IPO- এর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। নতুন যুগের সংস্থাগুলির মধ্যে ইতিমধ্যেই কিছু বড় নাম IPO- এর আগে প্রোমোটার কাঠামোয় পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়, যা আন্তর্জাতিক মানের কর্পোরেট পরিচালন নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
এছাড়া র্যাপিডোর এই সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর প্রবণতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র কাঠামোগত পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগকারীরা সংস্থার আর্থিক স্থিতি, লাভজনকতার পথ এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও খতিয়ে দেখবেন। IPO- এর সময় মূল্যায়ন এবং ব্যবসার ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনাই শেষ পর্যন্ত বড় ভূমিকা নেবে।




