Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫ সালে ভারতের রিটেইল ট্রেডিং মার্কেটে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। খুচরা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় দেশের শীর্ষ চার ডিসকাউন্ট ব্রোকারেজ সংস্থা-জিরোধা, গ্রো, অ্যাঞ্জেল ওয়ান ও আপস্টক সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। বছর জুড়ে শেয়ার ও ডেরিভেটিভস বাজারে লেনদেনের গতি কম থাকায় এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সামগ্রিকভাবে ব্রোকারেজ ইন্ডাস্ট্রির প্রায় ৫০ লক্ষেরও বেশি সক্রিয় রিটেইল ট্রেডার বাজার ছাড়েন। এই পতনের বড় অংশই এসেছে জিরোধা, গ্রো, অ্যাঞ্জেল ওয়ান ও আপস্টক সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। যার মধ্যে জিরোধা একই সবচেয়ে বেশি গ্রাহক হারিয়েছে, তারপরে রয়েছে গ্রো, অ্যাঞ্জেল ওয়ান ও আপস্টক্স।
কোভিড-১৯ – এর পর যে বিপুল সংখ্যক নতুন খুচরা বিনিয়োগকারী বাজারে এসেছিলেন, তাদের অনেকেই ২০২৫ সালে ট্রেডিং থেকে সরে এসেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্দার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সেবি ফিউচার ও অপশন ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম কঠোর করায় খরচ ও ঝুঁকি দুটোই বেড়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে অস্থিরতা, নির্দিষ্ট সময়ে সংশোধন, দুর্বল কর্পোরেট ফলাফল এবং কিছু আইপিওর হতাশাজনক পারফরম্যান্স ছোট বিনিয়োগকারীদের মনোবল ভেঙেছে। ফলে দৈনিক ট্রেডিংয়ের বদলে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বা মিউচুয়াল ফান্ডের দিকে ঝুঁকেছেন।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্রোকারদের আয়ে। লেনদেন কমে যাওয়ায় ব্রোকারেজ ফি থেকে আয় হ্রাস পেয়েছে, বিশেষ করে যেসব সংস্থা ডেরিভেটিভস ট্রেডিংয়ের উপর বেশি নির্ভরশীল। এরই মধ্যে অ্যাঞ্জেল ওয়ান লাভের চাপ সামলাতে ব্রোকারেজ কাঠামোয় পরিবর্তন এনেছে, যা বাজারে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে পুরো ইন্ডাস্ট্রি জুড়েই যে চিত্র একেবারে নেতিবাচক, তা নয়। কিছু ব্যাংক-সমর্থিত বা ফুল-সার্ভিস ব্রোকার যেমন ICICI সিকিউরিটিজ, SBI ক্যাপ সিকিউরিটিজ বা Paytm মানি তুলনামূলকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং সীমিত হলেও নতুন গ্রাহক যোগ করতে পেরেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দিনে ব্রোকারেজ সংস্থাগুলি কেবল ট্রেডিংয়ের উপর নির্ভর না করে ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট, বিনিয়োগ পরামর্শ ও অন্যান্য আর্থিক পরিষেবার দিকে আরও বেশি ঝুঁকবে।




