Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় শেয়ারবাজারকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ডেরিভেটিভস ট্রেডিংয়ে আসছে বড় পরিবর্তন। সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জ বা SGX ভারতীয় শেয়ারের সঙ্গে যুক্ত সিঙ্গেল-স্টক ফিউচারস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তের ফলে সিঙ্গাপুরের প্ল্যাটফর্মে ভারতীয় নির্দিষ্ট শেয়ারকে কেন্দ্র করে ফিউচার ট্রেডিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। আর সিঙ্গেল স্টক ফিউচারস হল এমন ডেরিভেটিভস কনট্র্যাক্ট, যেখানে কোনও নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের ভবিষ্যৎ দামের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগকারীরা পজিশন নেন।
ভারতীয় শেয়ারবাজারে সরাসরি ট্রেডিংয়ের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে এই ধরনের অফশোর ডেরিভেটিভসও দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। SGX-এর এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় শেয়ার নিয়ে আন্তর্জাতিক ট্রেডিংয়ের কাঠামোয় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব বিদেশী বিনিয়োগকারী সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে ভারতীয় নির্ষিষ্ট শেয়ারে ফিউচার পজিশন নিতে তাঁদের বিকল্প ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম বা ভারতীয় বাজারের সরাসরি ডেরিভেটিভস মার্কেটের দিতে যেতে হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারতীয় শেয়ার বা ভারতীয় ডেরিভেটিভসের বিদেশী চাহিদা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাবে। বরং ট্রেডিং কীভাবে এবং কোথায় হচ্ছে সেই কাঠামোতেই পরিবর্তন আসতে পারে।
ভারতীয় শেয়ারবাজারের ডেপফ্ট এবং দেশের ডেরিভেটিভস মার্কেটের বড় আকারের কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বিকল্প পথ এখনও রয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ইন্ডিয়া লিঙ্কড অফশোর ডেরিভেটিভস মার্কেট। এছাড়া সিঙ্গাপুর দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বাজারকে কেন্দ্র কে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। যার ফলে SGX-এর এই পরিবর্তন ভারতীয় শেয়ারের আন্তর্জাতিক ট্রেডিংয়ের ধরণ এবং লিক্যুইডিটির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন বাজারের নজরে।
ভারতের দিক থেকে দখলে, এই পরিবর্তন দেশীয় এক্সচেঞ্জগুলির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা যদি ভারতীয় এক্সচেঞ্জের ডেরিভেটিভস মার্কেটে আরো বেশি সক্রিয় হন, সেক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব ক্যাপিটাল মার্কেটের ট্রেডিং ভলিউম ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে বাস্তবে বিনিয়োগকারীরা কোন প্ল্যাটফর্ম বেছে নেবেন, তা নির্ভর করবে খরচ, লিক্যুইডিটি, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ট্রেডিংয়ের সুবিধার ওপর। এছাড়া এই বিষয়টি ভারতীয় শেয়ারের অফশোর ট্রেডিং এবং আন্তর্জাতিক ডেরিভেটিভস মার্কেটের কাঠামোয় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত।




