Article By – সুনন্দা সেন

দেশের সাধারণ মানুষ নিজের অর্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য সর্বপ্রথম ভরসা করেন ব্যাংকের উপর। আর বিশ্বাসের কাটা সর্বদা ঝুঁকে থাকে পাবলিক সেক্টর ব্যাংকগুলির দিকে। এমন অবস্থায় যদি কোনো রাজ্যে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI) এবং পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (PNB)- এর মতো দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিষেবা সহ লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়, তখন গ্রাহকদের মধ্যে চিন্তার জন্ম নেয়। আর তা খালি ওই একটি রাজ্যের জন্য নয় প্রশ্ন তোলে দেশের প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে। আর ঠিক তেমনটাই লক্ষ্য করা গেলো ভারতের এক রাজ্যে। তবে কেনো দেশের দুই বড়ো সরকারি ব্যাংকের লেনদেন বন্দ করা হলো?
SBI এবং PNB- এর সমস্ত লেনদেনের নির্দেশ দিয়েছে কর্ণাটক রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। আর নির্দেশনায় তিনি স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন যে কর্ণাটকে এই দুই ব্যাংকে কোন বিনিয়োগ করা যাবে না। অর্থসচিব পি সি জাফর ১২ আগস্ট এই বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছিলেন। পাশাপাশি রাজ্যবাসীকে PNB এবং SBI- এর রাজ্য বিভাগীয় ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্ণাটক সরকার সরকারি দফতর, বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক সেক্টর এন্টারপ্রাইজ সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমস্ত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। আর এই সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪- এর মধ্যে।
কর্ণাটক সরকার দাবি করেছে, ২০১৩ সালে SBI- এর সাথে কর্ণাটক রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের করা ১০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট বা FD- র জাল নথি ব্যবহার করে একটি বেসরকারী সংস্থার ঋণ নিষ্পত্তি করার কাজে অপব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া ২০১১ সালে PNB- এ কর্ণাটক ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের ২৫ কোটি টাকার FD অপব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ১৩ কোটি টাকা উদ্ধার করা গেছে। বাকি টাকা এখনও ফেরত পাওয়া যায়নি এবং মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে SBI জানিয়েছে তারা কর্ণাটক সরকারের সাথে আলোচনায় বসতে চায়। আর PNB- ও একই কথা বলেছে এবং সমাধানে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিষয়টি সময়ের মধ্যে সঠিক ভাবে চালিত না হলে দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রেও স্টেট ব্যাংক এবং পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক নিয়ে অবিশ্বাস দানা বাধতে পারে। পাশাপাশি যে সকল প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে তারাও বিপদে পড়তে পারে বলে জানা যাচ্ছে।





