জীবনের যে-কোনো পরিস্থিতিতে অর্থ সংকট দেখা দিতে পারে। এবং সেইসময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সঠিক সময়ে অর্থ সাহায্যের। সেইসব পরিস্থিতির জন্য এমারজেন্সি ফান্ড একান্ত জরুরি। তবে এমারজেন্সি ফান্ড ছাড়াও ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণও একটি উপায়, যার সাহায্যে তাড়াতাড়ি নগদের যোগান সম্ভব এবং আপনি নিজের ক্রেডিট স্কোর অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়কাল জুড়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারেন আপনি চাইলে সময়কাল পরিবর্তনও করতে পারেন, তবে সেটি নির্ভর করছে আপনার ক্রেডিট স্কোরের ওপর। কিন্তু এইরকম পরিস্থিতিতে এমারজেন্সি ফান্ডের ব্যবহার করবেন নাকি ব্যক্তিগত ঋণ নেবেন, সেটি জানা দরকার।
এমারজেন্সি ফান্ড কী?
এমারজেন্সি ফান্ড আর কিছুই না বরং আপনার জরুরি পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে আগে থাকতেই যে ফান্ড সরিয়ে রাখা হয়, বিশেষত জরুরি সময়ে ব্যবহারের জন্য, তাকেই এমারজেন্সি ফান্ড বলে। এইধরনের ফান্ড সাধারণত sweep in FD A/C অথবা লিক্যুইড ফান্ডে রাখা হয় যাতে জরুরি অবস্থায় টাকা তোলা যায় বেশ সহজে। জরুরি সময়ে আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে এমারজেন্সি ফান্ড কাজে আসে। পর্যাপ্ত এমারজেন্সি ফান্ড থাকলে সাধারণত অযথা ঋণ নিয়ে আর্থিক বোঝা বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না।
এবার আমরা জানব এমারজেন্সি ফান্ডের সুবিধা কী কী।
এমারজেন্সি ফান্ডের সুবিধা :
- অপরিকল্পিত চিকিৎসা খরচ : বর্তমানে চিকিৎসা খরচ কী হারে বাড়ছে তা আমরা সবাই জানি। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো জরুরি পরিস্থিতি এলে তার সঙ্গে আসে অত্যধিক খরচ যা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না অনেকক্ষেত্রেই। এইরকম সময়ে এমারজেন্সি ফান্ড নিশ্চয়তা দেয় যে আপনার কাছে অতিরিক্ত অর্থ রয়েছে এবং খরচ মেটাতে আপনাকে নিজের বিনিয়োগ বা নিয়মিত বেতন খরচ করতে হবে না।
- কর্ম ছাঁটাই : অনেকেই এইরকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছেন। কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার ফলে ছাঁটাই বা বেতন কমে যাওয়ার মতো ঘটনা অনেকের সাথেই হয়েছে। এইসব ক্ষেত্রে আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে এমারজেন্সি ফান্ড। যতদিন পর্যন্ত না নতুন কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ আপনার কাছে আসছে বা যতদিন পর্যন্ত না আপনি নিজের আয় স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আনছেন ততদিন এই ফান্ড আপনার আর্থিক প্রয়োজনীয়তা মেটাবে।
- পারিবারিক জরুরি অবস্থা : পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতিতে আর্থিক প্রয়োজনীয়তা আসতে পারে। তখন পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে অর্থের প্রয়োজন মেটায় এমারজেন্সি ফান্ড। তাই পরিবারের জন্য জরুরি যাত্রা হোক কিংবা অন্য কোনো পারিবারিক প্রয়োজনীয়তা, এমারজেন্সি ফান্ড থাকলে সহজে নগদের যোগানে সাহায্য হয়।
- গাড়ি বা বাড়ি মেরামত : অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়ি বা গাড়ি মেরামতের মতো প্রয়োজন এসে পড়তে পারে। এমারজেন্সি ফান্ড ব্যবহার করে আপনি সেই প্রয়োজনীয়তাও মেটাতে পারেন।
এতক্ষণ আমরা জানলাম এমারজেন্সি ফান্ড কী এবং কী কী সুবিধা রয়েছে এই ফান্ডের। এবার জেনে নেওয়া যাক ব্যক্তিগত ঋণ কী।
ব্যক্তিগত ঋণ কী?
অরক্ষিত একপ্রকার ঋণ হল ব্যক্তিগত ঋণ বা পার্সোনাল লোন। এই ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে কোনোরকম জামানত বা বন্ধক রাখতে হয় না। এই লোন পেতে হলে আপনাকে নিজের ক্রেডিট স্কোরের দিকে নজর দিতে হবে কারণ ক্রেডিট স্কোর দেখেই মূল্যায়ন করা হয় আপনি ক্রেডিট পাওয়ার যোগ্য কিনা এবং তারপরই লোন অনুমোদন করা হয়। হোম লোন, কার লোন ইত্যাদি ক্ষেত্রে যেমন কোনো বিশেষ একটি খরচের জন্য লোন দেওয়া হয় পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে তেমনটা কিন্তু নয়। পার্সোনাল লোন অন্য কোনো ঋণ পরিশোধে, বাড়ি মেরামতিতে, উল্লেখযোগ্য কিছু কিনতে, এমনকি সন্তানের উচ্চ শিক্ষাতেও কাজে লাগানো যেতে পারে। অর্থাৎ কোনো বিশেষ খরচ নয় বরং বিবিধ খরচ মেটাতে পার্সোনাল লোন নেওয়া যায়। সহজে অর্থের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করলেও অন্য যে-কোনো প্রকারের ঋণের তুলনায় পার্সোনাল লোনের সুদের হার বেশি।
পার্সোনাল লোনের সুবিধা :
- সঞ্চয়ের সুরক্ষা : কোনো জরুরি অবস্থায় যদি সমস্ত সঞ্চয় একেবারেই ফুরিয়ে যায় সেইসময় ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া যেতে পারে।
- সহজে ঋণ পরিশোধ : debt consolidation-এ সাহায্য করে ব্যক্তিগত ঋণ। যখন আপনি বর্তমানের একাধিক লোন শোধের জন্য নতুন করে ঋণ নেন, সেই আর্থিক কৌশলকে debt consolidation বলে। অনেকেই একাধিক ঋণের বোঝা কমাতে এই পদ্ধতি নিয়ে থাকেন।
কোনটি বাছবেন?
এমারজেন্সি ফান্ড ও ব্যক্তিগত ঋণের মধ্যে কোনটি বাছবেন ঠিক করার আগে কিছু বিষয় দেখা প্রয়োজন। যদি আপনার কাছে যথেষ্ট এমারজেন্সি ফান্ড থেকে থাকে অর্থাৎ অন্তত ৬ থেকে ৯ মাসের খরচ এমারজেন্সি ফান্ড হিসেবে থাকে তাহলে সেই ফান্ড ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো বিকল্প হবে। তবে যদি সেইরকম কোনো পর্যাপ্ত ফান্ড তৈরি না থাকে তাহলে ঋণ নেওয়াই একমাত্র বিকল্প থেকে যায়। সেইসময় আপনাকে ঋণের খরচের প্রতি অবগত থাকতে হবে। বিশেষত মূল টাকার ওপর কত সুদ নেওয়া হচ্ছে এবং লোন নেওয়ার পর আপনার আর্থিক চাপ কতটা পড়ছে সেই বিষয়গুলি আগে থেকেই দেখা উচিত।
এরপর আপনাকে নিজের পরিস্থিতি বুঝতে হবে অর্থাৎ কত দ্রুত আপনার অর্থের প্রয়োজন হতে পারে এবং সেই প্রয়োজন মেটাতে ব্যক্তিগত ঋণ আদৌ আপনি নিতে চান কিনা।
অথবা আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী দুটির সাহায্যই নিতে পারেন। অর্থাৎ যদি সুদের হার কম থাকে তাহলে আপনি ব্যক্তিগত ঋণ নিতে পারেন এবং নিজের এমারজেন্সি ফান্ড ব্যবহার করে EMI শোধ করতে পারেন।
তবে যে-কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আয় এবং আর্থিক সামর্থ্য বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যাতে ঋণের বোঝা না চাপে।





