Article By – সুনন্দা সেন

দেশের প্রতিটি ফ্যামিলি ও মন্দিরে বিপুল পরিমাণ সোনা অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI সেই সোনাকে ডিজিটাল টোকেনে রূপান্তর করার ব্যবস্থা করে, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ তাদের সোনার মূল্য ডিজিটাল ভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যদিকে সরকারকেও বিদেশ থেকে অতিরিক্ত সোনা আমদানি করতে কম বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারতের পারিবারিক গোল্ডের পরিমাণ ২৫ হাজার টনেরও বেশি। এই বিপুল সম্পদ ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে থাকায় অর্থনীতিতে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে না। RBI যদি ব্ল্যাকচেইন বা সুরক্ষিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ‘গোল্ড-কোড ডিজিটাল টোকেন’ চালু করে, তাহলে মানুষ তাদের সোনা জমা রেখে তার বিপরীতে ডিজিটাল টোকেন পেতে পারেন। সেই টোকেন লেনদেন, বিনিয়োগ বা ঋণের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এতে সোনার আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে। বর্তমানে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় সোনা আমদানিকারক দেশ, যার ফলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয় এবং চলতি হিসাবের ঘাটতির উপর চাপ পড়ে।
ডিজিটাল গোল্ড টোকেন চালু হলে দেশের ভেতরেই থাকা সোনা অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সক্রিয় হবে এবং আমদানির প্রয়োজন কিছুটা কমতে পারে। এছাড়া এই উদ্যোগ আর্থিক প্রযুক্তি বা ফিনটেক খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এর জন্য শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা এবং জনগণের আস্থা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। RBI-কে সোনা সংরক্ষণ, টোকেনের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং জালিয়াতি রোধে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।




