Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নগদ (surplus liquidity) দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক বা RBI। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা, অর্থাৎ ১০.৫ বিলিয়ন ডলারের সরকারি বন্ড বিক্রি করে বাজার থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১৭, ২১ এবং ২৮ সেপ্টেম্বর,২০২৬ অর্থাৎ তিন দফায় বন্ড বিক্রি হবে। RBI-এর এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো, বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নগদের পরিমাণ প্রায় ১১ লক্ষ কোটি টাকা ছুঁয়েছে।
সম্প্রতি RBI-এর বিশেষ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাংকগুলি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ সংগ্রহ করায় বিপুল পরিমাণ টাকা দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ে। এর ফলে ব্যাংকগুলির হাতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি নগদ জমা হয়েছে। অতিরিক্ত নগদের ফলে স্বল্পমেয়াদি সুদের হার RBI-এর নির্ধারিত নীতিগত সীমার নিচে নেমে গিয়েছিল। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় ভবিষ্যতে মূল্যবৃদ্ধির চাপও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই এই অতিরিক্ত টাকা বাজারে রেখে না দিয়ে ধীরে ধীরে শোষণ করতে চাইছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রথম দফায় ১৭ সেপ্টেম্বর ৫০ হাজার কোটি টাকার সরকারি বন্ড বিক্রি করবে RBI। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর আরও ২৫ হাজার কোটি টাকা করে বন্ড বিক্রি করা হবে। অর্থাৎ তিন দফায় মোট ১ লক্ষ কোটি টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা। এর আগে RBI অতিরিক্ত নগদ শোষণের জন্য ভিআরআরআর এবং ডলার-রুপি সোয়াপের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগে ব্যাংকগুলির আগ্রহ সীমিত ছিল। ফলে এবার অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ওপেন মার্কেট অপারেশন বা OMO- এর পথে হাঁটল RBI।
তবে এর প্রভাব শুধু ব্যাংকিং ব্যবস্থাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। RBI সরকারি বন্ড বিক্রি করলে বাজারে বন্ডের সরবরাহ বাড়তে পারে এবং এর ফলে সরকারি বন্ডের দাম কমে ও বন্ডের সুদ বা ইয়িল্ড (yield) বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই ১০ বছরের বেঞ্চমার্ক বন্ডের ইয়িল্ড ৭%- এর ওপরে উঠেছে। এতে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। RBI-এর এই পদক্ষেপকে সরাসরি সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বলা যাবে না। বরং এর লক্ষ্য হলো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত টাকা কমিয়ে আর্থিক বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা। তবে বন্ডের ইয়িল্ড ও বাজারের সুদের হারে চাপ বাড়লে ভবিষ্যতে ঋণের খরচের উপরও প্রভাব পড়তে পারে।




