Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত FTA (Free Trade Agreement) কার্যকর হলে ভারতের গাড়ির বাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপের প্রিমিয়াম ও দামি গাড়ির নির্মাতারা ভারতের বাজারে তুলনামূলক কম শুল্কে গাড়ি আনতে পারবেন। বর্তমানে ইউরোপীয় গাড়ির উপর ভারতের আমদানি শুল্ক সর্বোচ্চ প্রায় ১১০% পর্যন্ত হতে পারে। তবে চুক্তির অধীনে নির্দিষ্ট কোটার মধ্যে এই শুল্ক ১০%- এ নামানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কোটা (quota)। ইউরোপীয় গাড়ির জন্য বছরে ২.৫ লক্ষ গাড়ি পর্যন্ত ১০% শুল্কের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া BMW, মার্সিডিজ বেঞ্জ (Mercedes-Benz), অডি (Audi)-র মতো প্রিমিয়াম গাড়ি নির্মাতাদের জন্য ভারতীয় বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই সুবিধা পুরো বাজারের সব গাড়ির জন্য নয়, বরং এটি নির্দিষ্ট কোটা এবং FTA-এর শর্ত মেনেই তা কার্যকর হবে। অন্যদিকে, ভারতের জন্যও এই চুক্তির বড় সুবিধা রয়েছে। ভারতে তৈরি গাড়ি এবং অটোমোটিভ কম্পোনেন্ট ইউরোপের বাজারে আরও সহজে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। ভারত সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ক্যালিব্রেটেড অটো লিবেরালিস্টিং শুধু ইউরোপীয় গাড়িকে ভারতের বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেবে না, ভবিষ্যতে মেক ইন ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ভারতে উৎপাদিত গাড়ি ইউরোপে রফতানির পথও প্রশস্ত করতে পারে।
শুধু গাড়ি নয়, সামগ্রিকভাবে এই FTA ভারতের রফতানিকারকদের জন্য বড় বাজার খুলতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী ভারতের ৯৯%- এরও বেশি রফতানি মূল্য ইউরোপের বাজারে প্রেফারেনটিয়াল এক্সেস পাওয়ার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, লেদার, মেরিন প্রোডাক্ট, রত্ন ও গয়নার মতো শ্রমনির্ভর ক্ষেত্রগুলি লাভবান হতে পারে। তবে এই সুবিধা এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আলোচনা শেষ হলেও FTA-টি এখনও লিগ্যাল ভিসন এবং দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। চুক্তির চূড়ান্ত কার্যকর হওয়ার পরেই শুল্ক ছাড় বাস্তবে প্রযোজ্য হবে।
ব্যবসায়িক দিক থেকে সবচেয়ে বড় বার্তা হল, এই FTA একদিকে ভারতের প্রিমিয়াম গাড়ি বাজার (premium car market)-এ ইউরোপীয় সংস্থার প্রবেশ বাড়াতে পারে, অন্যদিকে ভারতীয় অটোমোবাইল ও কম্পোনেন্ট প্রস্তুতকারকদের জন্য ইউরোপে বড় রপ্তানি সুযোগ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ প্রতিযোগিতা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় অটোমোটিভ শিল্প (automotive industry)-র গ্লোবাল ইন্ট্রিগেশন আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




