Article By – সুনন্দা সেন

ডলারের বিপরীতে দীর্ঘদিনের চাপ কাটিয়ে অবশেষ স্বস্তির খবর ভারতীয় মুদ্রাবাজারে। এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থান দেখালো ভারতীয় রুপি। আর এই উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক বা RBI-এর সক্রিয় হস্তক্ষেপ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের অর্থ রিডিম করে নেওয়ার কারণে রুপির ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে RBI বাজারে ডলার বিক্রি করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে রুপির অতিরিক্ত পতন রুখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, RBI-এর এই পদক্ষেপ শুধু রুপির স্থিতিশীলতাই বাড়ায়নি; বরং বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত। এছাড়া শক্তিশালী রুপি ভারতের অর্থনীতির জন্য বেশকিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল, ইলেকট্রনিক্স, ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাঁচামালসহ যেসব পণ্য আমদানি করা হয়, সেগুলির খরচ কিছুটা কমতে পারে। ফলে আমদানি নির্ভর সংস্থাগুলির ব্যয় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপরও কিছুটা চাপ কমতে পারে।
তবে অন্যদিকে রপ্তানিকারক সংস্থাগুলির জন্য শক্তিশালী রুপি কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ ডলারে আয় হলেও তা রুপিতে রূপান্তরের সময় তুলনামূলক কম অর্থ পাওয়া যায়। যার ফলে IT, টেক্সটাইল ও অন্যান্য এক্সপার্ট-অরিয়েন্টেড ইন্ডাস্ট্রিজের লাভের মার্জিনে প্রভাব পড়তে পারে। তাই এখন বাজারের নজর থাকবে RBI-এর আগামী পদক্ষেপ, আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম, মার্কিন ফেডের নীতি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের প্রবণতার দিকে। কারণ এই সমস্ত বিষয়ই আগামী দিনে রুপির গতিপথ নির্ধারনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
রুপির শক্তিশালী হওয়া আমদানি-নির্ভর শিল্প বা ইন্ডাস্ট্রি, জ্বালানি খাত এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক হলেও রপ্তানিকারক সংস্থাগুলির আয়ে চাপ সৃষ্টি কতে পারে। সাথে রুপি শক্তিশালী হলে IT, টেক্সটাইল ও ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো ইন্ডাস্ট্রিতেও রুপিতে আয় কমে যেতে পারে। তাই RBI-এর এই পদক্ষেপ আমদানি, রপ্তানি, মুদ্রাস্ফীতি, কর্পোরেট লাভ এবং শেয়ারবাজার সহ সকল ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।




