Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নগদের পরিমাণ রেকর্ড স্তরে পৌঁছনোর পর RBI (Reserve Bank of India) বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে। সোমবার অর্থাৎ আজ (০৭ সেপ্টেম্বর,২০২৬) RBI বিভিন্ন তারল্য উত্তোলন কার্যক্রম (liquidity withdrawal operation)-এর মাধ্যমে ৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে শুষে নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা ওভারনাইট অকশন এবং আরও ২.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা ৩০ দিনের অকশন (auction)-এর মাধ্যমে RBI-এর কাছে জমা পড়েছে।
এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত তারল্য বেড়ে রেকর্ড ১১.৬ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছিল, যা মোট ব্যাংক আমানতের প্রায় ৪%। মূলত বিপুল বিদেশি মুদ্রা প্রবাহ এবং RBI- এর বিভিন্ন বিদেশি কার্যক্রম (forex operation)-এর পর ব্যাংকগুলির হাতে এত অতিরিক্ত টাকা জমা হয়েছে। RBI-এর এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল ব্যাংকগুলির হাতে অতিরিক্ত টাকা কমিয়ে স্বল্পমেয়াদি সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
আর এই অতিরিক্ত তারল্যতা থাকলে ব্যাংকগুলো খুব কম সুদে একে অপরকে টাকা ধার দিতে পারে, ফলে সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থায় মুদ্রাস্ফীতির চাপ (inflationary pressure) তৈরি হতে পারে। তবে ব্যাংকগুলো RBI- এর দীর্ঘমেয়াদি তারল্য শোষণ কার্যক্রম (liquidity absorption operation)-এ প্রত্যাশার তুলনায় কম টাকা রেখেছে। তাই আগামী দিনে RBI আরও বিপরীত রিপো অপারেশন (reverse repo operation), MSS (Market Stabilization Scheme) বন্ডস এবং ফরেক্স সেল-বাই সোয়াপ (forex sell-buy swaps) ব্যবহার করে অতিরিক্ত টাকা শোষণ করতে পারে।
সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হলো, RBI ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত টাকা কমিয়ে বাজারে নগদের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। অর্থাৎ, ব্যাংকগুলোর হাতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা জমে গিয়েছিল, তাই RBI সেই অতিরিক্ত টাকার একটা বড় অংশ সাময়িকভাবে নিজের কাছে টেনে নিয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত লিক্যুইডিটি রেকর্ড ১১.৬ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। অবশ্য তার পরদিন RBI ৬ লক্ষ কোটি টাকার বেশি টাকা শুষে নিয়েছে।




