Article By – সুনন্দা সেন

বেশ দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও বাড়তে থাকা অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মাঝে শোনা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছে ভারতীয় পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানি আদানি পাওয়ার। শুক্রবার অর্থাৎ ১নভেম্বর একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ভারতের আদানি পাওয়ার ঝাড়খন্ড লিমিটেড বা APJL, যা আদানি পাওয়ারের সম্পূর্ণ মালিকাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, 846 মিলিয়ন মার্কিন ডলার বকেয়া বিলের কারণে বাংলাদেশে তার অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ PLC থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ৩১ অক্টোবর, ২০২৪-এর রাতে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট পাওয়ার সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশের স্টার পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, ৩১ অক্টোবর এবং ১ নভেম্বরের মাঝরাতে বাংলাদেশে ১,৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কারণ ১,৪৯৬ মেগাওয়াটের প্ল্যান্টটি এখন ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। অবশ্য পাওয়ার সাপ্লাই কমিয়ে দেওয়ার আগে আদানি করছে। অবশ্য পাওয়ার সাপ্লাই কমিয়ে দেওয়ার আগে আদানি কোম্পানি বাংলাদেশের পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বা PDB-কে চিঠি দিয়ে ৩০ অক্টোবর, ২০২৪-এর মধ্যে তার বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার কথা জানিয়েছে। আর চিঠিটি ২৭ অক্টোবর পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও আদানি পাওয়ারের নেওয়া সীদ্ধান্তটি পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট বা PPA-এর অধীনে গৃহীত হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
আদানি পাওয়ার ঝাড়খন্ড লিমিটেড জানিয়েছে মোট বকেয়ার পরিমাণ ৮৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (USD)। PDB বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ১৭০.০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের জন্য ক্রেডিট লেটরি প্রদান করেনি বা ক্লিয়ারও করেনি। জানা যাচ্ছে যে PDB প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে, যেখানে কোম্পানির চার্জ ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। আর এই প্রক্রিয়া চলছে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে। বাংলাদেশের এক সংবাদ পত্রের দাবি আদানি পাওয়ার জুলাই থেকে চার্জেস বাড়িয়েছে। তাই এমনটা হচ্ছে।
পাশাপাশি এও জানা যাচ্ছে যে PDB গত সপ্তাহে বকেয়ার অর্থ প্রদানের জন্য কৃষি ব্যাংকে ক্রেডিট লেটার পাঠায়, কিন্তু ডলারের ঘাটতির কারণে ব্যাংক লেটারের পরিবর্তে পেমেন্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চার্জ বৃদ্ধ করার জন্য অভিযোগ এবং একাধিক প্রশ্ন আনা হয়েছে আদানি পাওয়ারের বিরুদ্ধে। যার উত্তরে কোম্পানি জানিয়েছে, PPA-এর জন্য বাংলাদেশকে কম মূল্যে কয়লা সরবরাহ করতে কোম্পানি একটি চুক্তির মাধ্যমে রাজি করিয়েছিল। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কয়লার খরচ বেড়েছে যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চার্জ বৃদ্ধি পেয়েছে।




