Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ও কানাডার মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ফের শুরু হল গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে CEPA (Comprehensive Economic Partnership Agreement) নিয়ে আলোচনায় বসেছে। সরকারি আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে এই আলোচনার চতুর্থ দফা, যা চলবে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর এই বাণিজ্য চুক্তি সম্পূর্ণ হলে ভারত ও কানাডার মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আলোচনায় পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্যের পাশাপাশি উৎপত্তির নিয়মাবলী (Rules of Origin) এবং প্রযুক্তিগত বাণিজ্য বাধা (Technical Trade Barriers)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসছে। অর্থাৎ কোন পণ্যকে ভারতীয় বা কানাডিয়ান পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং দুই দেশের বাজারে পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বাধা কীভাবে কমানো যায়; সেই বিষয়গুলিও চুক্তির অংশ হতে পারে। দুই দেশ চলতি বছরেই এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষ করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে এই মুহূর্তে দুই দেশের বাণিজ্যে কিছুটা মন্থরতা দেখা গিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ও কানাডার মধ্যে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৭.৯৫ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৮.৬৬ বিলিয়ন ডলার। ব্যবসায়িক দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, CEPA কার্যকর হলে দুই দেশের সংস্থাগুলির জন্য বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য কানাডার বাজারে পণ্য ও পরিষেবা পৌঁছনোর ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একইভাবে কানাডার সংস্থাগুলিও ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা বাজারে আরও বেশি সুযোগ পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই আলোচনার অগ্রগতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু শুল্ক কমানো নয়, বিনিয়োগ, পরিষেবা, ব্যবসায়িক গতিশীলতা এবং বাজারে প্রবেশের নিয়ম সহজ করাও ভবিষ্যতের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে। বাণিজ্য বাড়লে বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।




