Article By – সুনন্দা সেন

গিগ অর্থনীতি ও ডেলিভারি পার্টনারদের কাজের শর্ত নিয়ে দেশজুড়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গেঁ, ঠিক সেই সময় ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম Zomato (জোমাটো)- র CEO প্রকাশ্যে সংস্থার গিগ মডেলকে জোরালোভাবে সমর্থন করলেন। দীপিন্দর গোয়ালের দাবি করেছেন, জোমাটোর ডেলিভারি পার্টনারদের গড় আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং এই কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল কাজের নমনিয়তা ও স্বাধীনতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ডেলিভারি পার্টনারদের গড় আয়ে ১০.৯% বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সাথে গিগ মডেলকে সমস্যার উৎস মনে না করে আধুনিক অর্থনীতির বাস্তব সম্মত সমাধান হিসেবে দেখছে।
CEO-এর মতে, গিগ মডেল শুধু সংস্থার জন্য নয়, কর্মীদের জন্যও আর্থিকভাবে লাভজনক হতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “অনেকে মনে করেন গিগ কাজ মানেই অনিশ্চয়তা, চেয়ে বেশি আয় করেছেন।” সানে তিনি গিগ মডেলের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে CEO কাজের স্বাধীনতার কথা তুলে ধরেন। ডেলিভারির পার্টনাররা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী কাজের সময় বেছে নিতে পারেন এবং প্রয়োজনে কাজের সময় কমাতে বা বাড়াতে পারেন। শিক্ষার্থি, পার্ট টাইম কর্মী কিংবা অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষরা যখন অতিরিক্ত আয় করতে চান তখন এই মডেল বিশেষভাবে উপযোগী হয়ে ওঠে।
তবে গিগ কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যবিমা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তা একেবারে উড়িয়ে দেননি গোয়ালের। তিনি জানান, সংস্থা ধাপে ধাপে ইনসিওরেন্স কভার, দুর্ঘটনা বিমা এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করছে। তাঁর দাবি, সরকার ও শিল্পক্ষেত্র একসঙ্গে কাজ করলে গিগ কর্মীদের জন্য আরও শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, ভারতের শ্রমবাজারে গিগ অর্থনীতি একটি বড় পরিবর্তন আনছে। একদিকে যেমন এটি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে তেমনই স্থায়ী চাকরির সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্নও বাড়াচ্ছে। জোমাটোর সিইওর বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
[গিগ অর্থনীতি (Gig Economy) হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে স্থায়ী, ফুল-টাইম চাকরির বদলে স্বল্পমেয়াদি কাজ, চুক্তিভিত্তিক কাজ বা ফ্রিল্যান্স কাজ বেশি হয়। এখানে কর্মীরা সাধারণত নির্দিষ্ট সময় বা নির্দিষ্ট কাজের জন্য পারিশ্রমিক পান, মাসিক বেতনভিত্তিক চাকরি নয়।]




