Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বিমান পরিকাঠামো খাতে বড়সড় সম্প্রসারণের পথে হাঁটছে আদানি এন্টারপ্রাইজেস। সংস্থাটি জানিয়েছে, কেন্দ্র সরকার যে ১১টি বিমানবন্দর বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা নিয়েছে, সেগুলোর জন্য বিডে অংশ নিতে প্রস্তুত তারা। এই গোটা প্রকল্পে বিনিয়োগের অঙ্ক ধরা হচ্ছে প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতের এভিয়েশন ও পরিকাঠামো খাতে অন্যতম বড় বিনিয়োগের উদাহরণ হতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ আদানি গ্রুপের দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামো কৌশলেরই অংশ। ইতিমধ্যেই আদানি গ্রুপ মুম্বই, আহমেদাবাদ, লখনউ, জয়পুর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।
তারা আরও বলেন যে, নতুন করে আরও ১১টি বিমানবন্দর যুক্ত হলে, দেশের বিমান পরিবহণ ব্যবস্থায় আদানির প্রভাব অনেকটাই বাড়বে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো বিমানবন্দরগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিকীকরণ এবং যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত করা। এদিকে সরকার মনে করছে, বেসরকারি বিনিয়োগ এলে বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা তৈরি হবে, পাশাপাশি রাজকোষের ওপর চাপও কমবে। আদানি এন্টারপ্রাইজেস জানিয়েছে, তারা বিমানবন্দরগুলিতে নতুন টার্মিনাল, ডিজিটাল পরিষেবা, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কার্গো হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। যার ফলে শুধু যাত্রী পরিষেবাই নয়, বরং লজিস্টিক্স ও বাণিজ্য ক্ষেত্রেও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল আরও দ্রুত ও সহজ হবে। পাশাপাশি বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় হোটেল, পরিবহণ, খুচরো ব্যবসা ও পরিষেবা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে একই সঙ্গে বাজারে প্রতিযোগিতা, একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, ভারতের যাত্রী পরিবহণ বাজার দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর পরিকাঠামো শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। আদানি গ্রুপের এই বড় বিনিয়োগ ভারতের এভিয়েশন সেক্টরের ভবিষ্যৎ রূপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।




