Article By – সুনন্দা সেন

পশ্চিমবঙ্গে বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিনিয়োগের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ডেয়ারি কপারেটিভ ফার্ম বা সংস্থা আমুল। আগামী ১৪ জুন, ২০২৬ হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে আমুলের নতুন আরেকটা মিল্ক প্রসেসিং এবং দইয়ের প্রোডাকশন সেন্টার খাতের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর আশা করা হচ্ছে, নতুন প্ল্যান্টটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ লিটার দুধ প্রসেসিংয়ের সক্ষমতার তৈরি হবে। পাশাপাশি ১০ লক্ষ কেজি পর্যন্ত দই, মিষ্টি দই, লস্যি এবং বাটারমিল্ক প্রোডাকশন করা হবে।
আমূলের এই বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধ উৎপাদক বা ডেয়ারি প্রসেসিংয়ে কৃষকদের জন্য ও বড় সুযোগ তৈরি করবে। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক জেলায় দুধ বা মিল্ক কালেকশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। এছাড়া নতুন প্রকল্পের ফলে আরও বেশি সংখ্যক কৃষক সরাসরি বাজারের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং দুধের চাহিদা বাড়ার ফলে তাদের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনার তৈরি হবে।
শিল্প মহলের মতে, এই প্রকল্প শুধু দুগ্ধ শিল্প ডেয়ারি ইন্ডাস্ট্রিই নয়, পরিবহন, প্যাকেজিং, কোল্ড স্টোরেজ এবং খুচরো বিপণন ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পূর্ব ভারতের বাজারকে কেন্দ্র করে অমুলের দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই কারখানা। বর্তমানে ভারতের দুগ্ধজাত পণ্যের বা ডেয়ারি প্রোডাক্টেরবাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যের চাহিদা এবং সংগঠিত দুগ্ধ ব্র্যান্ডগুলির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে দই ও ইয়োগার্টের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই পশ্চিমবঙ্গে এই বৃহৎ বিনিয়োগ করছে অমুল।
আবার অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্প বিনিয়োগের যে আলোচনা চলছে, তার মধ্যে অমুলের ৭০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প অন্যতম উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের শিল্পায়ন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।




