Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে অ্যালুমিনিয়াম ক্যানের জোগান ঘাটতি তৈরি হওয়ায় কোকাকোলা, পেপসিকো থেকে শুরু করে কিংফিশারের মতো বড় পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি এখন দ্রুত ক্যান আমদানির পথে হাঁটছে। ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্স বা BIS-এর অনুমোদন দেরি হওয়ায় দেশীয় ক্যান প্রস্তুতকারকদের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যহত হয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সফট ড্রিঙ্ক, বিয়ার ও এনার্জি ড্রিঙ্ক ইন্ডাস্ট্রিতে। ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে জানা গেছে, নতুন মান ও সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার কারণে একাধিক দেশীয় ক্যান নির্মাতা এখনও BIS ক্লিয়ারেন্সের অপেক্ষায় রয়েছে।
গ্রীষ্মের মরসুম ও উৎসবের আগে হঠাৎ করে ক্যানের চাহিদা বাড়লেও স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কায় বড় পানীয় সংস্থাগুলি (beverage makers) অস্থায়ী সমাধান হিসেবে বিদেশ থেকে ক্যান আমদানি শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানের ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু উৎপাদন খরচই বাড়াবে না, বরং বাজারে পানীয়ের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে। আমদানি করা ক্যান তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হওয়ায় সংস্থাগুলির মার্জিনে চাপ বাড়ছে। তবে বিকল্প না থাকায় অনেক কোম্পানিই এই অতিরিক্ত খরচ বহন করতে বাধ্য হচ্ছে, যাতে বাজারে সরবরাহ বজায় রাখা যায়।
অন্যদিকে দেশীয় ক্যান প্রস্তুতকারকের দাবি, BIS-এর অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে তারা চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবেন। আর শিল্প মহলের একাংশের মতে, মান নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই জরুরি, কিন্তু দীর্ঘসময় হলে তা পুরো ভ্যালু চেনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে FMCG ও বেভারেজ সেক্টরে, যেখানে সময়মতো প্যাকেজিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন যে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি দ্রুত সমাধানের পথে না হাঁটে, তাহলে আমদানির উপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। আর BIS অনুমোদনে দেরির কারণে তৈরি হওয়া এই ক্যান সংকট আপাতত পানীয় শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




