Article By – সুনন্দা সেন

ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেই দেশের অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং চলতি হিসাবের ঘাটতির ওপর চাপ তৈরি হয়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলানোর পথে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তেল আর শুধু ঝুঁকির উৎস নয়, বরং কৌশলগত শক্তি ও অর্থনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া গত কয়েক বছরে ভারত তার তেল সংগ্রহের উৎসকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৈচিত্র্যময় করেছে।
বিশেষজ্ঞদর মতে, ভারতের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতা হিসেবে নিজের বারগেনিং ক্ষমতা বাড়ানো। বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতি হওয়ায় আগামী দশকেও ভারতের তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। ফলে উৎপাদক দেশগুলোর কাছে ভারত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এই অবস্থান ভারতকে আরও অনুকূল শর্তে জ্বালানি আমদানির সুযোগ দিচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকার একদিকে যেমন কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত বাড়াচ্ছে, তেমনি ইথানল মিশ্রণ, সবুজ জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং হাইড্রোজেন প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি রূপান্তরের এই সময়ে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য বজায় রাখছে।
একদিকে বর্তমান অর্থনীতির জন্য পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া হচ্ছে। এই দ্বিমুখী কৌশল ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় সুবিধা এনে দিতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ভারত একইভাবে সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করা, জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং বিকল্প জ্বালানিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখে, তাহলে আগামী দশকে তেল বাজারে শুধু একজন বড় ক্রেতা নয়, বরং একটি প্রভাবশালী কৌশলগত শক্তি হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।




