Article By – সুনন্দা সেন

ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ চলাকালীন ভারতীয় শেয়ারবাজারে সাধারণত ইতিবাচক রিটার্ণ লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০০২ থেকে ২০২২ পর্যন্ত অধিকাংশ বিশ্বকাপ পর্বে নিফটি৫০ ও BSE সেনসেক্স গড়ে উর্ধ্বমুখী ছিল। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে এটি সরাসরি ওয়ার্ল্ডকাপ এফেক্ট নয়; বরং সেই সময়ের অর্থনৈতিক অবস্থান লিক্যুইডিটি, কর্পোরেট আয় এবং বৈশ্বিক ঝুঁকির প্রভাব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র (UK), কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ভারতের সময় অনুযায়ী; অধিকাংশ ম্যাচ গভীর রাত বা ভোরে লাইভ দেখতে পাওয়া যাবে। আর ঠিক এই কারণে বিজ্ঞাপন থেকে আয় ও দর্শকসংখ্যা (Viewership) নিয়ে সম্প্রচারকদের মধ্যে শুরুতে অনিশ্চয়তা ছিল। এমন কি ফিফা (FIFA)-কে ব্রডকাস্ট রাইটস প্রাইস উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হয়েছিল, পরে অবশ্য Zee entertainment ব্রডকাস্ট রাইট কিনে নেয়। এছাড়া অনেকেই বলছেন ২০২৬ সালের পরিস্থিতি বাজারের ক্ষেত্রে অনেকটা আলাদা। কারণ হলো–
- বিদেশী বিনিয়োগ প্রবাহ এখনও অস্থির।
- পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় ফুয়েল প্রাইশ বৃদ্ধির আশঙ্কা।
- ভারতীয় শেয়ারবাজারের মূল্যায়ন ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় তূলনামূলকভাবে বেশি।
- বিশ্বকাপের ম্যাচের সময় ভারতীয় প্রাইস টাইমের বাইরে হওয়ায় ২০২২ ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ (কাতার বিশ্বকাপ)-এর মতো বাণিজ্যিক প্রভাব নাও দেখা যেতে পারে।
ইতিহাস বলছে বিশ্বকাপের সময় ভারতীয় বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, কিন্তু ২০২৬ সালে শুধুমাত্র ফিফা বিশ্বকাপ বা FIFA World Cup-এর উপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সুদের হার, মুদ্রাস্ফীতি, FII প্রবাহ, কর্পোরেট ফলাফল এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিই বাজারের মূল চালিকা শক্তি হয়ে থাকবে।




